উত্তর ভারত খুব কমই জানে দক্ষিণ ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে, মুথুভেল করুণানিধি সম্পর্কে জানতে তাদের বয়েই গেছে। সারা জীবন ওই মানুষটি লড়ে গেছেন উত্তর ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেই। তিরিশের দশকের শেষে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতায় ডালমিয়াপুরম স্টেশনের নামে কালি লেপে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তামিলনাড়ুতে নবোদয় বিদ্যালয় খুলে হিন্দি আবশ্যিক করেছিল দিল্লি। রুখে দঁাড়ান সেই করুণাই। ‘‌আরিভু বিধুতলাই আক্কা’‌— উত্তর ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে সেই আন্দোলনে লড়ে গেছেন, লড়েছেন তথাকথিত আর্য সংস্কৃতির নামে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। উত্তরের ব্রাহ্মণরা দক্ষিণ ভারতীয় পূজারী সম্প্রদায়কে কীভাবে অনগ্রসর জাতির তকমা পরিয়েছিল, সে আরেক কাহিনী। উত্তরের ব্রাহ্মণরা কুসংস্কার চাপিয়ে দিয়েছে দক্ষিণের ঘাড়ে, তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করেছিলেন করুণা। অন্ধ বিশ্বাস দ্রাবিড় সংস্কৃতির অঙ্গ ছিল না, এর বিরুদ্ধে আইন চেয়েছিলেন তিনি। মাদুরাইয়ের কাছে জ্যোতিমণিকম গ্রামের ১৩ জন বাসিন্দার ডিএনএ ৭০ হাজার বছরের পুরনো, আর্যরা ভারতে এসেছে বড়জোর ২০০০ বছর আগে। ভারতের আদি বাসিন্দা কারা?‌ নীহাররঞ্জন রায় লিখেই গেছেন। চোদ্দো বছর বয়সে রাজনীতিতে করুণার হাতেখড়ি। ওই প্রজন্মের অনেকের মতোই তিনিও ই ভি রামস্বামী পেরিয়ারের দ্রাবিড় আত্মসম্মান আন্দোলনের সন্তান। নাগপট্টিনমের গরিব ঘরের ছেলেটির মধ্যে ছিল পেরিয়ারের যুক্তি, আলাগিরিস্বামীর সাহস আর আন্নার ভাষা। প্রখর বাগ্মী। দ্রাবিড় আন্দোলনের প্রথম ছাত্র সংগঠন তঁার তৈরি। তঁার উৎসাহে ছাত্রদের জন্য যে কাগজ বার করা হয়, তা–‌ই পরে ডিএমকে–‌র দলীয় মুখপত্র ‘মুরাসলি’। করুণার ডিএমকে ছিল একমাত্র দল, যারা শাসক হয়েও জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করে বরখাস্ত হয়। ২০০৭ সালেই গেরুয়া সংস্কৃতির উত্থান নিয়ে কেন্দ্রকে সতর্ক করেছিলেন, রামসেতু নিয়ে করুণার বিরোধিতায় দক্ষিণে দঁাত ফোটাতে পারেনি তারা। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সেরা প্রবক্তা ছিলেন তিনি। করুণানিধির জীবন নিয়ে চর্চা আর কোথাও না হোক, হোক এই বাংলায়।‌

জনপ্রিয়

Back To Top