কলকাতার বদনাম করার লোকের অভাব নেই। বিজেপি নেতারা ফোড়ন কাটেন। টিভি–‌তে অবিরাম। অন্য বিরোধীরাও। দিল্লি থেকে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নেতারাও বলেন, বাংলায় আইন‌শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শোচনীয়, কলকাতা বাসের অযোগ্য। একটি তথ্য প্রকাশিত হল। মহিলাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম বাংলায়। ‘‌শান্তি’‌ বিরাজ করছে বলে যে–‌সব রাজ্যের কথা বলা হয়, সেই সব রাজ্যে নারী–‌নির্যাতন বেশি, অনেক বেশি। তথ্যটা কোনও বেসরকারি সংস্থা দিচ্ছে না। দিচ্ছে এনসিআরবি (‌ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো)‌, যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন। ২০১৭ সালের হিসেব পাওয়া গেল। তাতে আরও একটি তথ্য। দেশের ১৯টি প্রধান শহরের মধ্যে অপরাধের সংখ্যা সবচেয়ে কম কলকাতায়। হ্যাঁ, সবচেয়ে কম। রাজ্য সরকার, কলকাতা পুলিশ প্রশাসনকে কি সে জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি?‌ সাধারণ বুদ্ধিতে, সেটাই তো করা উচিত। একটা অপরাধও যাতে না হয়, সম্পূর্ণ শান্তি যাতে থাকে, সবাই চাইবেন। কিন্তু, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতেও অপরাধহীন শহর নেই। থাকতে পারে না। এনসিআরবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন, তারা রাজ্য সরকারের পক্ষে সুবিধাজনক তথ্য সরবরাহ করেছে, নিশ্চয় বলা যাবে না। এবার একটু অন্যদিকে তাকানো যাক। এনসিআরবি রিপোর্টে কয়েকটা তথ্য অনুপস্থিত। নেই। গোটা দেশে অপরাধের সংখ্যার হিসেব দেওয়ার জন্য আছে যে সংস্থা, তা কেন কিছু ক্ষেত্রে তথ্যহীন?‌ কী বিষয়ে তথ্য নেই?‌ গণপিটুনি। সংবাদমাধ্যমে গণপিটুনির অসংখ্য ঘটনার খবর আমরা পাই। তথ্য নেই। কৃষকদের আত্মহত্যার তথ্য নেই। সাংবাদিকদের ওপর হামলার তথ্য নেই। গোরক্ষকদের হামলায় মৃতের সংখ্যা কত?‌ ‌তথ্য নেই। বেছে বেছে তথ্য সম্পর্কে নীরব এনসিআরবি।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top