যে কোনও দেশে কর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, কম বা বেশি। নির্বাচনে বড় ইস্যু। আমাদের দেশে লোকসভা নির্বাচন চলছে, ভাবুন তো কতখানি গুরুত্ব পাচ্ছে ইস্যুটা?‌ ২০১৪ সালে ভোটের প্রচারে এবং ইস্তাহারে নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বছরে ২ কোটি চাকরি হবে। ৫ বছরে ১০ কোটি। বাস্তব কী?‌ হয়নি, কিছু হয়নি। গত আড়াই বছরে ২ কোটি ১৭ লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। কিছু বিশ্বাসযোগ্য সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি শোচনীয়। ৪৫ বছরে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। বেকারত্বের হার সর্বাধিক। ২০১২ সালের কথা ভাবলে, ব্যাপারটা বোঝা যাবে। সে বছর বেকারত্বের হার ছিল ২.‌২ শতাংশ। আর এখন?‌ ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। দেশের দেড় কোটি শিক্ষিত তরুণ বেকার। চাকরির লাইনে দাঁড়িয়ে। দরজা খুলছে না। ২০১৬ সালে নোট বাতিলের পরে কাজ হারিয়েছেন ১ কোটি ৮৭ লক্ষ মানুষ। কৃষি ও নির্মাণশিল্পে কর্মরত কত মানুষ যে রুজি হারিয়ে পথে বসেছেন, ভাবা যায় না। ছোট ও মাঝারি শিল্পে বিপর্যয়। শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাই যে ক্ষতিগ্রস্ত, তা তো হয় না। সেই সব শিল্পে নিযুক্ত লক্ষ লক্ষ কর্মী দুর্গতিতে। দেশ নাকি আর্থিক বৃদ্ধিতে এগিয়ে চলেছে, এগিয়েই চলেছে। কিন্তু কী উপকার সেই বৃদ্ধিতে, যা কাজ দেয় না?‌ শ্রমনিবিড় শিল্পের, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের সর্বনাশে কর্মসংস্থানের হাল খারাপ হয়েই চলেছে। দেশের শাসক দল কর্মসংস্থানের ইস্যু গিলে ফেলেছে, প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা জনগণকে হজম করাতে চাইছে। তরুণরা কাজ পাবেন, ইস্যু নয়, ইস্যু হল যুদ্ধ!‌ কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতিই বা কী?‌ ২২ লক্ষ সরকারি পদ ফাঁকা, চাকরি দেওয়া হবে। আর কিছু নয়। কর্মপ্রার্থী তরুণদের জন্য ভাবছে না দেশের বড় দুটি দল, এর চেয়ে অন্যায় আর কী হতে পারে?‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top