জেএনইউ ক্যাম্পাসে স্বামী বিবেকানন্দর মূর্তির পায়ের কাছে কালি দিয়ে কুকথা। ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবিভিপি। বক্তব্য, এ হল বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের কাজ!‌ বামপন্থী ছাত্র সংসদ চুপ করে থাকেনি। দাবি, সিসিটিভি খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হোক। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মুক্ত বুদ্ধির, তর্কের প্রশস্ত পরিসর। বামপন্থীরা বরাবরই শক্তিশালী, কিন্তু বিরোধী সংগঠনের ওপর হামলা করেনি কোনওদিন। আন্দোলনের ভাষায় কুরুচি আসেনি কখনও। হয়তো দু–‌একবার ভুল পথে গেছে আন্দোলন, পরে শুধরেও নেওয়া হয়েছে। নোবেলজয়ী অভিজিৎ ব্যানার্জি জেএনইউ–‌এর পরিবেশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত। বলেছেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে না গেলে দেশটাকে জানা হত না। আর্থিক বৈষম্য কারও পথে বাধা নয়। যাঁরা বামপন্থী নন, তাঁরাও নির্বিঘ্নে পড়াশোনা, সংগঠন করেছেন। দেশের অর্থমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও জয়শঙ্কর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। পৃথিবীর বহু নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান প্রাক্তনীরা। আইএএস, আইপিএস, আইএফএস হয়েছেন বহু ছাত্রছাত্রী। স্বামী বিবেকানন্দর মূর্তির পাদদেশে কারা কুকথা লিখল, তদন্ত হোক। এক বছর ধরে কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে মূর্তিটি। কেউ কিছু করেনি। সত্তরের দশকে নকশালপন্থীদের একাংশ মনীষীদের মূর্তি ভাঙার দিকে গিয়েছিল। সে পথ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে কালি ছিটিয়েছিল র‌্যাডিক্যাল গোষ্ঠীর কিছু তরুণ। সরকার আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে, মূর্তি সারিয়েছে। সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখুন। উত্তরপ্রদেশে আক্রান্ত হয় আম্বেদকরের মূর্তি, ১২ জায়গায়। আরএসএস–পন্থীদের কুকাজ। ত্রিপুরায় সরকারে এসেই বিজেপি ভাঙল লেনিন মূর্তি। ‘‌বেশ করেছি’‌!‌ কলকাতায় বিজেপি–‌র মিছিল থেকে গুন্ডারা ভাঙল বিদ্যাসাগরের মূর্তি। বলা হচ্ছে, বিবেকানন্দ মূর্তির পাদদেশে কুকথা লেখা গেরুয়া বাহিনীরই কাজ। ফি–‌জ শতগুণ বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন অন্যদিকে নজর ঘোরাতেই চক্রান্ত?

জনপ্রিয়

Back To Top