যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কত মেধাবী ছাত্রছাত্রী এই শিক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে দেশের ও বিদেশের প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। কেউ অধ্যাপক, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ প্রযুক্তিবিদ। আরও নানা ক্ষেত্রে প্রসারিত। বিখ্যাত কত অধ্যাপক শিক্ষকতার মানকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে গিয়ে যাদবপুরকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দিয়েছেন। এখনও আছেন অসংখ্য মেধাবী পড়ুয়া, কৃতী শিক্ষক। যাদবপুর মানেই আন্দোলন। সাধারণভাবে নেতিবাচক চিন্তা অমূলক। স্বয়ং প্রণব মুখার্জি এসে বলে গেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পঠনপাঠনের নয়, ভিন্ন মত প্রকাশ ও প্রতিবাদেরও কেন্দ্র হওয়া উচিত। যাদবপুর সেই ঐতিহ্য বহন করছে। সুতরাং প্রথমেই বলে দেওয়া গেল, যাদবপুর সম্পর্কে আমাদের পূর্বঘোষিত রাগঝাল নেই। কিন্তু এমন কিছু ঘটনা তো আসছে, যা উদ্বিগ্ন করার পক্ষে যথেষ্ট। তুচ্ছ কারণেও ঘেরাও, ক্লাস বন্ধ, ঘন ঘন চিৎকৃত প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামে আঁচড় লাগাচ্ছে। সুরঞ্জন দাস যোগ্য উপাচার্য। ইতিহাসের দুরন্ত অধ্যাপক। চিন্তাভাবনায় প্রগতিশীল। তাঁর নামেও এমন কিছু পোস্টার পড়েছে, কী বলব, গা ঘিনঘিন করে। কুরুচিকর বললে কম বলা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনা উদ্বেগজনক। বিস্তর আন্দোলনের পর সিদ্ধান্ত, কলা বিভাগের ৬টি বিষয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষাও থাকবে। দায়িত্বে বিভাগীয় শিক্ষকরা। ওঁরা নিশ্চয় উপযুক্ত। যখন নম্বর নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠল, কিছু স্পষ্ট অসঙ্গতি, প্রবেশিকা পরীক্ষার খাতা পাঠানো হল বাইরের অধ্যাপকদের কাছে। ফল অনেকটা পাল্টে গেল। বাছাই তালিকার ৭০ জনের মধ্যে ১৫ জন চলে গেলেন ওয়েটিং লিস্ট–‌এ, বাদ–‌পড়া ১৫ জন পেলেন ভর্তি হওয়ার অধিকার। বেশ নিচের দিকের কেউ উঠে এলেন ওপরে, হল উল্টোটাও। ৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ০ পেয়েছিল কয়েকজন। বলা হচ্ছে ‘‌সাবজেক্টিভ’‌ বিষয় ও পরীক্ষা, এরকম হতেই পারে। উচ্চমাধ্যমিক ৮০–‌৯০ শতাংশ নম্বর–‌পাওয়া ছাত্র ০ পেতে পারে?‌ অঙ্ক তো নয়। ‘‌সাবজেক্টিভ’‌ বলেই প্রশ্ন, ০ হয়?‌ যাদবপুরের সুনাম যদি রাখতেই হয়, গোটা বিষয়টা বিশদে প্রকাশ করা হোক। যা হয়েছে, কেন হল।

জনপ্রিয়

Back To Top