গুরুতর অভিযোগ যাদবপুর থানার ওসি পুলক দত্তর নামে। এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। একটা ওষুধ দরকার ছিল। তরুণ ডাক্তার বলেন, কাউকে দিয়ে আনিয়ে নিন (‌রোগীর সঙ্গে দুজন ছিলেন)‌। কেন ডাক্তার নিজেই এনে দিচ্ছেন না, অসন্তুষ্ট ওসি। হয়তো সামান্য কথা–‌কাটাকাটি। ডাক্তারের গালে চড়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের অন্য ডাক্তাররা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ জানান (‌লিখিত)‌ সংশ্লিষ্ট ডিসি–‌র কাছে। আইএমএ–‌র কর্তা, তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনও এই ক্ষোভের অংশীদার হন, পুলিস অফিসারের শাস্তি দাবি করেন। এরপর যা হল, অস্বাভাবিক। পুলিসের পেজ–‌এ ওসি পুলক দত্তর বক্তব্য প্রচারিত হয়। এক, উনি বুঝতে পারেননি যে, শ্রীনিবাস একজন ডাক্তার, ভেবেছিলেন ফার্মাসিস্ট। তাতে কী এসে গেল?‌ যদি ডাক্তার না হয়ে ফার্মাসিস্টই হতেন, চড় মারা যায় নাকি?‌ দুই, ওসি–‌র এক হাতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। অন্য হাতে চ্যানেল। চড় মারা সম্ভব?‌ পুলিস অফিসার নাকি সামান্য মাথা–‌গরম করে ফেলে একটা ঝটকা দেন, তখন হাতটা ডাক্তারের গায়ে লেগে থাকতেও পারে। পুলকবাবুর হাই ব্লাড প্রেশার, সেটাও মনে রাখতে হবে। ‘‌ঝটকা’‌!‌ মাথা–‌গরম, হাই প্রেশার, সুতরাং ‘‌ঝটকা’‌ মারাই যায়!‌ ডাক্তারদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, পুলিস কর্তৃপক্ষ কেন পুলকবাবুর পাশে দাঁড়াচ্ছেন?‌ কেন তাঁর বক্তব্য প্রচার করা হল?‌ যদি প্রতিকার না হয়, ভবিষ্যতে পুলিস কর্মীদের চিকিৎসা করবেন না!‌ হাস্যকর কথা। একজনের অন্যায়ের জন্য কোনও পুলিস কর্মীর চিকিৎসা করবেন না, এ আবার কেমন কথা?‌ পুলিস বনাম ডাক্তার, ব্যাপারটাকে এভাবে দেখা হচ্ছে কেন?‌ কলকাতা পুলিস তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ–‌এ ডাক্তারদের সুরক্ষার পক্ষে প্রচার করে নিয়মিত। ডাক্তারদের অসম্মান করলে কড়া শাস্তির কথা বলে। ব্যতিক্রম, সে জন্যই প্রশ্ন, এ ক্ষেত্রে একটা পক্ষের (‌অভিযুক্ত পুলিস অফিসারের)‌ বক্তব্য প্রচার করা হল কেন?‌ চিকিৎসক শ্রীনিবাসকে সবাই ঠান্ডা মাথার তরুণ হিসেবেই জানে। একতরফা প্রচারে থাকবে কেন সচেতন কলকাতা পুলিস?‌ রেহাই পেতে পারেন না পুলক দত্ত। তদন্ত হোক।
‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top