রাজ্যপালদের তর্জন–গর্জন ইদানীং খুব বেড়েছে। যেমন, কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বলছেন, তাঁকে না জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ক্যা চ্যালেঞ্জ করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হয়েছে। আরিফ অত্যন্ত বিদ্বান, কিন্তু তিনি ভুলে যাচ্ছেন কেরল সরকার কোনও আইন প্রণয়ন করেনি, নেহাতই সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। ভারতের গণপরিষদে কথা হয়েছিল, বিধানসভাই রাজ্যপালকে নির্বাচন করবে। তখন আম্বেদকর তুলেছিলেন সঙ্ঘাতের প্রসঙ্গ, এবং বলেছিলেন বিদ্বজ্জনদের রাজ্যপাল পদে বসানোই সঙ্গত হবে। পরে ক্ষমতাসীন দলের লেজুড়দেরই পদে দেখা যায়। তাঁরা রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাধীন, যার অর্থ ক্ষমতাসীন দলের হুকুমবরদার। রাজ্যপালের কাজ আইন রক্ষা করা, সংবিধানের ব্যাখ্যা দিতে পারে সুপ্রিম কোর্টই। আইন স্রেফ সাদা–কালোয় লেখা কয়েকটি পঙ্‌ক্তি নয়, এর একটা ধূসর এলাকা থাকে। যাঁরা আজ বলছেন, সংসদে অনুমোদিত আইনমাত্রেই রাজ্যের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক, তাঁরা যথার্থ ব্যাখ্যাটি দিচ্ছেন না। অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিতকরণ আইন কিংবা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ক্ষেত্রে বিজেপি–র সরকারই অতীতে সংসদে অনুমোদিত আইনের বিরোধিতা করে কোর্টে গিয়েছিল। সমস্যা হল, আমেরিকার মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে আলোচনা ভারতে হয় না। মার্কিন প্রশাসনের হুকুম উপেক্ষা করতে পারে কোনও প্রদেশ, এমনকী স্থানীয় প্রশাসনও। বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অ্যারিজোনা প্রদেশ, কিংবা অভিবাসীদের বর্ণমূলক পরিচিতি তৈরি নিয়ে নিউ ইয়র্কের প্রতিবাদ নথিবদ্ধ হয়ে আছে। হ্যাঁ, ভারতে কেন্দ্র সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করতে পারে, ফেলে দিতে পারে রাজ্যের সরকার। কিন্তু ক’‌টা?‌ সে দুঃসাহস আর আছে কি?‌ তেমন কিছু করলে বিজেপি–র কংগ্রেস বিরোধিতার অস্ত্র চিরকালের মতো শেষ হয়ে যাবে।

জনপ্রিয়

Back To Top