সংবাদটি একই সঙ্গে মূল্যবান এবং সুমিষ্ট। ছানা, ক্ষীর, বাদামের পর এবার সোনা দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি। শুনে হয়তো কেউ ভাববেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজারাজড়াদের ব্যাপার। শখ–আহ্লাদ মেটাতে সোনাদানা, হীরে–জহরত তাদের কাছে কোনও সমস্যা নয়। কিন্তু সোনার মিষ্টির এই গর্বের ঘটনাটি অন্য কোথাও নয়, ঘটেছে এই দেশেই। আমাদের ভারতবর্ষে। যে দেশে ক্ষুধা একটি অতি সামান্য বিষয়, যে দেশে ক্ষুধা হাতিয়ার করে ক্ষমতাবান মানুষরা আখের গোছায়, যে দেশে ক্ষুধার জন্য দরিদ্র কৃষকদের মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়, যে দেশে বহু মানুষ হয় অভুক্ত, নয় আধপেটা খেয়ে থাকে, যে দেশে বহু মানুষকে অন্যের দয়ায় অথবা চেয়েচিন্তে খেতে হয়, যে দেশের বহু মানুষকে হাতের কাছে গাছপাতা যা মেলে তাই খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়, যে দেশের বহু মানুষকে খিদেতে আত্মহত্যা করতে হয়, যে দেশের বহু মানুষ খাবারের জন্য উপার্জন করতে গিয়ে বঞ্চনা, অবহেলা, জালিয়াতি আর শোষণের শিকার হয়, সেই দেশে সোনার মিষ্টি অবশ্যই একটা আনন্দ সংবাদ। মিষ্টি হচ্ছে কোথায়?‌ সুরাটে। একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন বিক্রেতার পরিকল্পনা। বোঝাই যাচ্ছে উনি হলেন ‘‌সোনার দেশের সোনার ছেলে’‌। মিষ্টি কি সত্যি সোনার?‌ নাকি সোনার কেল্লার মতো?‌ ‘‌তোপসে, সোনার পাথরবাটি কি আর সোনা দিয়ে তৈরি?‌’‌ একেবারেই তা নয়। এই মিষ্টি অবশ্যই সোনা দিয়ে তৈরি। থাকছে খাঁটি সোনার তবক। এক কেজির দাম ন’‌হাজার টাকা। রাখিপূর্ণিমা উপলক্ষে বাজারে আসছে। সোনার বিক্রেতা আশ্বাস দিয়েছেন, দাম যতই বেশি হোক, কেনার লোক আছে। থাকবেই তো। দেশ যতই গরিব হোক, সোনা কেনার লোক কি কম রয়েছে?‌ তবু সংশয়। রাখিবন্ধন মানে সৌহার্দ্যের বন্ধন। ভালবাসার বন্ধন। স্নেহের বন্ধন। সোনার মিষ্টিতে কি সেই বন্ধন শক্ত হবে?‌ ধর্মের হানাহানি কমবে?‌ কমবে মেয়েদের ওপর অত্যাচার?‌ কমবে অনার কিলিং–‌এর নৃশংসতা?‌ ডাইনি, ছেলেধরা সন্দেহে হত্যা কমবে তো?‌ নইলে সেই সোনার মূল্য কী?‌ মিষ্টি নয়, দেশকে আগে সোনার হতে হবে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top