সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র হৃষীক কোলের সম্ভাব্য আত্মহত্যা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন সমাজের বিশিষ্টরা, সাধারণ মানুষও। সুইসাইড নোট থেকে জানা গিয়েছে, হৃষীক ক্লাসে ইংরেজিতে পড়ানো বুঝতে পারছিলেন না। সহপাঠীরা ইংরেজিতে কথা বলায় বিচ্ছিন্ন মনে হচ্ছিল তাঁর। মফস্‌সল থেকে কলকাতার প্রথম সারির কলেজে একেবারে নতুন পরিবেশ, মানিয়ে নিতে পারেননি। পবিত্র সরকার প্রমুখ বিখ্যাত শিক্ষাবিদ পরামর্শ দিয়েছেন, স্কুল স্তর থেকেই ইংরেজিতে আরও পোক্ত করে তোলার চেষ্টা করা উচিত। উচ্চশিক্ষা ইংরেজিতেই হয়, বিশেষত বিজ্ঞানে, বাণিজ্যে, অর্থনীতির মতো বিষয়ে। নিশ্চয় ভেবে দেখবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। হৃষীক কি একেবারেই ইংরেজি জানতেন না?‌ এমন পরিবেশ থেকে এসেছেন, যেখানে উচ্চশিক্ষার আলো পৌঁছয়নি। তথ্য ভিন্ন কথাই বলছে। তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। কিন্তু মা শিক্ষিকা। দিদি স্নাতকোত্তর স্তর পার করে অন্য রাজ্যে গবেষণা করছেন পদার্থবিদ্যা নিয়েই। হৃষীক উচ্চমাধ্যমিকে ৯৪ শতাংশ পেয়েছেন। ইংরেজিতে ভাল নম্বর। সেন্ট জেভিয়ার্সে ভর্তি হতে পেরেছেন। আর একটা কথা বলা হচ্ছে, শিক্ষকের সহমর্মিতা দরকার। আইআইটি–‌র এক অধ্যাপক বলেছেন, ক্লাসে একটি মেয়েকে দেখে বোঝেন, অসুবিধে হচ্ছে। পরে জিজ্ঞেস করেন। ছাত্রীটি বলেন, হিন্দিতে পড়ালে ভাল হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ইংরেজিতেই পড়ান, কিন্তু ক্লাসের পরে মেয়েটিকে আলাদা করে বুঝিয়ে দেন। সেন্ট জেভিয়ার্স নামকরা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেখানে, যত দূর জানি, ‘‌বড়লোকি’‌ নেই। সহমর্মী শিক্ষকরাও আছেন। মাত্র দু–‌তিনদিন ক্লাস করেই হতাশ হয়ে পড়লেন কেন ছাত্রটি?‌ কলেজে ভর্তি, হস্টেলে ভর্তি। তিন–‌চার দিনে একজন বন্ধুও পেলেন না, যিনি ভরসা জোগাবেন?‌ খুব বড় কথা। বন্ধু চাই, বন্ধু।    ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top