রবীন্দ্র সরোবরে দূষণ নিয়ে অনেক হইচই শোনা গেল। ছটপুজোর পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবটা পরিষ্কার হয়েছে পুরসভা, রাজ্যের উদ্যোগে। তবু, মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, যেটুকু দূষণ হয়েছে, তিনিও ব্যথিত। ধর্মীয় ভাবাবেগকে লাঠি–‌গুলি দিয়ে মোকাবিলা করা যায় না। বিশেষ কমিটি গড়েছেন দূষণ নিয়ন্ত্রণে, পরিবেশবিদদের সাহায্যও চেয়েছেন। পরিবেশবিদরা ইতিবাচক পরামর্শ দিন, পুরসভা তথা রাজ্য যথাসম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। সন্দেহ নেই, প্রচারের ফলে, রাজ্য সরকারের, পুলিশের, পুরসভার চেষ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। দিল্লিতে পরিস্থিতিটা ভয়াবহ। পৃথিবীর দূষিততম শহরগুলোর মধ্যে একটা আমাদের রাজধানী। বিশেষত তিন–‌চার মাস দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। মাস্ক পরতে দেখা যায় অনেক মানুষকে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার স্কুলে, অন্যত্র ৫০ লক্ষ মাস্ক দিয়েছে। কিছুদিনের জন্য গাড়িতে জোড়–‌বিজোড় নীতি এবারও চালু করেছে। পুলিশ কেন্দ্রের হাতে এবং নিষ্ক্রিয়। এই দূষণের প্রধান কারণ প্রতিবেশী তিন রাজ্য, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে শস্যের গোড়া পোড়ানো। কেন্দ্র দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থেকেছে। পথ খুঁজছেন পরিবেশবিদরাও। তিনটি পরামর্শ পাওয়া গেল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলছেন, বীণা শুনুন। বীণার আওয়াজ দূষণের বিরুদ্ধে আপনাকে সুরক্ষা দেবে!‌ কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ‘‌বিজ্ঞানসম্মত’‌ পরামর্শ দিলেন, নগরবাসী বুঝুন, দূষণমুক্ত থাকার একমাত্র পথ হল, প্রচুর গাজর, ব্রকোলি খাওয়া। দূষণ প্রতিরোধে গাজর–‌ব্রকোলির চেয়ে ভাল কিছু হতে পারে না!‌ উত্তরপ্রদেশের এক মন্ত্রী আরও ‘‌বিজ্ঞানসম্মত’‌ পরামর্শ দিলেন:‌ পরিবেশ নিয়ে বেশি ভাবার দরকার নেই। যজ্ঞ করতে হবে। যজ্ঞের ফলে বৃষ্টি নামবে, দূষণ উধাও!‌ এমন দেশেই আছি আমরা। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top