অভিনন্দন, পিয়ারলেস। ৬১ বছর পর, তিন প্রধানের বাইরে কোনও দল লিগ চ্যাম্পিয়ন। ১৯৫৮ সালে বাঘা সোমের প্রশিক্ষণে জয়ী ছিল ইস্টার্ন রেল। চার বছর পরে, ১৯৬২, সেই টিমের তিনজন এশিয়াড জয়ী ভারতীয় দলে ছিলেন। পি কে ব্যানার্জি, প্রশান্ত সিনহা, প্রদ্যোত বর্মন। লিগজয়ী টিমে ছিলেন অধিনায়ক বুড়ন বসু, বুনো ঘোষ, তাপস সোম, অসীম সোম, নিখিল নন্দী, সুনীল নন্দী, দিনু দাস। পৃথিবীর সব দেশেই ‘‌বড় দল’‌ থাকে, কিন্তু তার বাইরেও তিন–‌চারটি প্রায় সমান শক্তিশালী। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সুদিন গত, তাই দুটো বড় ক্লাবের মধ্যেই লড়াই। দুই ‘‌বড়’‌ টিম সর্বভারতীয় লিগে পেরে উঠছে না কেন, বড় প্রশ্ন। ১৯৫৮ সালের ইস্টার্ন রেল টিমে কোচ বাঙালি, সব ফুটবলার বাঙালি। এবার কোচ বাঙালি, জহর দাস। পিয়ারলেসের প্রথম দলে খেলেছেন সাত–‌আটজন বাঙালি। ক্রোমার অবদান বিশাল, সেই ক্রোমাই বলছেন, স্থানীয় ফুটবলারদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। ওঁরা লড়ে গেছেন। বাঙালির গর্ব। পাশাপাশি, বাংলার অন্যতম গর্ব, ইস্টবেঙ্গলের কথা বলা যাক। লড়াইয়ে ছিল শেষ পর্যন্ত। শেষ ম্যাচে, পিয়ারলেস পয়েন্ট নষ্ট করলে অথবা ইস্টবেঙ্গল বিরাট জয় পেলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারত। একই দিনে ম্যাচ। ইস্টবেঙ্গল মাঠে বানের জল, খেলা হল না। পিয়ারলেস জিতল ২–‌০। আইএফএ পুজোর সময়ে পুলিশ পাওয়া নিয়ে সমস্যায়। তবু, কল্যাণীতে ৩ অক্টোবর ম্যাচ করার অনুমতি পাওয়া গেল। লিগ পেতে ইস্টবেঙ্গলকে জিততে হত ৭ গোলে। প্রায় অসম্ভব। তবু, ফুটবলে সবই হতে পারে। ক্লাবের বক্তব্য, ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ যখন করা যাচ্ছে না, পিয়ারলেস ম্যাচ করা হল কেন?‌ কোন নিয়মে লেখা আছে যে, এক মাঠে জল দাঁড়ালে অন্য মাঠের খেলা বন্ধ করে দিতে হবে?‌ ৩ অক্টোবর গরহাজির ইস্টবেঙ্গল। যে–‌কর্মকর্তারা দারুণভাবে শতবর্ষ পালন করলেন,  তাঁরা কিছুটা অসহায় ছিলেন। রাশ স্পনসর কোয়েস–‌এর হাতে। কোচ শুধু ওদের কথায় চলেন। তিনি ১ তারিখ প্র‌্যাকটিসের পর ২০ দিনের ছুটি দিয়ে দিলেন!‌ ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস নিয়ে, ঐতিহ্য নিয়ে কোয়েসের মাথাব্যথা নেই। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জিজ্ঞেস করুন। প্রায় সবাই বলবেন, লিগ না–‌হয় পাওয়া গেল না, ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। এই সমর্থকদের আবেগ স্পর্শ করে না স্পনসরদের।

জনপ্রিয়

Back To Top