রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে শরিক জেডিইউ সদস্যকে জিতিয়ে আনার পর বিজেপি নেতাদের উল্লাস রীতিমতো উচ্চকিত। বিরোধীদের দিকে ঠাট্টাও ছুঁড়ে দিয়েছেন অরুণ জেটলি। তবে, কথা হল, মানুষের ভোটে নির্বাচন নয়। মানুষের মনের খবর এতে পাওয়া যাবে না। ঠিক আগের দিনই একটা খবর আছে মধ্যপ্রদেশ থেকে। বিভিন্ন পুরসভায় ১৪ কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। ৯টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস, বিজেপি ৪, নির্দল ১। ৯–‌৪ ব্যবধানটা নির্ভুল সূচক। মধ্যপ্রদেশে নিশ্চিত বিপর্যয়ের দিকে বিজেপি। যেহেতু এই রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল, সুবিধাটা কংগ্রেসই পাবে। রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরবে। লোকসভায় অনেক আসন ছিনিয়ে নেবে। তবু, মধ্যপ্রদেশের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, রাহুল গান্ধীরা ভাল ফল নিশ্চিত ভেবে কিছু দিকে নজর দিচ্ছেন না। ভুল। সেই ভুলের সুযোগ নিতে পারে অমিত শাহর দল। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চান রাজ্যবাসী। বুঝতে চান কর্মীরাও। পাঁচ বছর ধরেই ভাবা হয়েছে, কংগ্রেস জিতলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন প্রয়াত মাধবরাও সিন্ধিয়ার ছেলে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। ভাবমূর্তি স্বচ্ছ। তারুণ্যের দীপ্তি আছে। কংগ্রেসের নতুন প্রজন্মের যে দু’তিনজন সামনের সারিতে, নিঃসন্দেহে জ্যোতিরাদিত্য তাঁদের মধ্যে একজন। জনপ্রিয়, সুবক্তা। রাহুলের ঘনিষ্ঠ বলয়ে আছেন। তবু, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে তুলে ধরতে দ্বিধা দেখাচ্ছে কংগ্রেস। যিনি এখনও গদিতে বসার স্বপ্ন দেখেন, সেই প্রবীণ নেতা কমল নাথকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হয়েছে। ভুল। মধ্যপ্রদেশে অনেক আসন বাড়ানোর জন্য দরকার মায়াবতীর সঙ্গে জোট। ঝুলিয়ে রেখেছে কংগ্রেস। এর প্রভাব সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও পড়বে। কেন রফার কাজটা করে ফেলা হচ্ছে না?‌ রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনও ভুলের একটা উদাহরণ। অনেক ক্ষেত্রেই সর্বসম্মতিতে হয়ে যায়। যদি লড়তেই হয়, জিততেও তো হয় ২০১৯–‌এর কথা ভেবে। নবীন পট্টনায়কের বিজেডি–‌কে পরিষ্কার মদত দিয়ে কিছু ভোট পাওয়ার চেষ্টা করা যেত। আপ–‌এর সমর্থনও মিলত। অরবিন্দ কেজরিওয়াল চেয়েছিলেন, একটা ফোন করুন রাহুল। না। অবুঝ প্রদেশ নেতাদের গুরুত্ব দিয়ে রাহুল নীরব থাকলেন। ভুল। ২০১৯–‌এ বিরোধী শক্তির জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কিন্তু, এত ভুল করলে চলবে?‌

জনপ্রিয়

Back To Top