সৌজন্য, ভদ্রতা নিয়ে এক রম্য অসাধারণ লেখা এসেছিল বুদ্ধদেব বসুর কলম থেকে। লিখেছিলেন, প্রচণ্ড গরমের দিনে কেউ এসেছেন, হয়তো পছন্দের নন মোটেই, তঁাকেও এক গ্লাস শরবত পারেন না কি দিতে বিরক্ত গৃহস্বামী?‌‌ যঁাকে আমরা হৃদয় দিতে পারি না, তঁাকেও কি দিতে পারি না একটু ভদ্রতার ছেঁায়া?‌.‌.‌.‌ ভোট এলে, বেড়ে যায় অসৌজন্য। কুকথার স্রোত থামতে চায় না। দেশে, রাজ্যেও উদাহরণ অজস্র। একটু সৌজন্যে কিন্তু বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় না, বরং সামান্য হলেও সহনীয় পরিবেশ তৈরি হয়। ২০১৪ সালে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে দীপক অধিকারী (‌চিত্রতারকা দেব)‌ প্রথমেই ফোন করেছিলেন প্রতিপক্ষ বাম প্রার্থীকে। তঁার বাড়িতে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎও করে আসেন। এবারও, তালিকা ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেব শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বামফ্রন্ট প্রার্থীকে। বললেন, ‘‌আমাদের মধ্যে কেউ জিতব কেউ হারব, কিন্তু দুজনই যেন ঘাটালের উন্নয়নের জন্য এক হয়ে কাজ করতে পারি।’‌ সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী যখন জঘন্যভাবে আক্রান্ত, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাম প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌ব্যক্তিগত আক্রমণ, রুচিহীন কাজ সমর্থন করি না। লড়াই হবে রাজনৈতিক।’‌ মিমি প্রার্থী হয়েই বলেছেন, ‘‌বিকাশবাবু মেয়র ছিলেন, সিনিয়র নেতা, ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা করি।’‌ এতে কি কোনও প্রার্থীর ক্ষতি হল?‌ আসানসোলে তৃণমূল প্রার্থী সুচিত্রা–‌তনয়া মুনমুন সেন বললেন, ‘‌বাবুলের নামে ব্যক্তিগতভাবে খারাপ কথা কেন বলব?‌ ভাল শিল্পী, ভাল থাকুক।’‌ বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি প্রার্থী। বললেন, ‘‌মুনমুন সেন সম্পর্কে কুরুচিকর কথা বলব না। তৃণমূলের দুই নায়িকা প্রার্থীকে জঘন্য আক্রমণও সমর্থন করি না।’‌ কোনও ক্ষতি হল কারও?‌ এটুকু সৌজন্য দেখানো হোক, আমাদের আবেদন।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top