সম্প্রতি আজকাল পত্রিকায় বইমেলা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, বই চুরি কি কমে গেল?‌ নইলে বইমেলায় বইচুরি নিয়ে কোনও ঘোষণা কেন শোনা যায় না আর?‌ কেন স্টলে স্টলে দেওয়া হয় না সর্তকবাণী?‌ কেন ঘোষক–‌ঘোষিকারা মাইকে জানান না, মেলার ফটকে কিন্তু বই কেনার রসিদ দেখা হবে?‌ প্রতিবেদনটি যথার্থ। সত্যি বইচুরি নিয়ে আর ‘‌হইচই’‌ নেই। একটা সময় বইমেলায় বই থাকবে, প্রকাশক থাকবে, পাঠক থাকবে, কিন্তু ‘‌‌বইচুরি’‌ থাকবে না সেকথা ভাবাই যেত না। পেশাদার চোর বাদ দিলে, বইমেলার ‘‌বইচুরি’‌র মধ্যে একটা ‘‌মধুর’‌ ব্যাপার যে ছিলই তাতে কোনও সন্দেহ নেই। যে তরুণটি স্টল থেকে সুনীল, শক্তি, শঙ্খ ঘোষের কবিতার বইটি গোপনে তুলে নিজের জামার ভিতরে চালান করত এবং বাইরে এসে প্রেমিকার হাতে লাজুক মুখে তুলে দিয়ে বলত, ‘‌তোমার জন্য গোটা আকাশ বাতাস চুরি করতে পারি, এ তো সামান্য কবিতার বই’‌— তাকে আর যা–‌ই হোক ‘‌চোর’‌ বলা যেত না। প্রকাশক, লেখকদের অল্পবিস্তর ক্ষতি হত বটেই, তবে তাকে হিসেবের খাতায় ব্যবসার অংশ হিসেবেই ধরে নেওয়া হত। মেলায় শুধু লাভ দেখলেই হয় না, মেলার মেজাজও দেখতে হয়। তাহলে কি সেই দিন ফুরলো?‌ ফুরলো কিনা বলা যাবে না, বইমেলা যেমন বারবার ঠঁাই বদলেছে, তেমন চরিত্রও বদলেছে। দিন দিন সে বাণিজ্যিক, পেশাদার হয়ে উঠছে। সল্টলেকে আসবার পর তো আরও বেশি। খাবারের স্টল নেই, টিভি চ্যানেলের হুল্লোড় নেই, মাইক বাজানোর দাপট নেই। বেশির ভাগের হাতেই বইয়ের প্যাকেট। প্যাকেট না থাকলেও বই দেখছেন, বই ঘঁাটছেন। সল্টলেকে যখন বইমেলা হওয়ার প্রস্তাব এসেছিল, প্রায় সকলেই বলেছিল, মেলায় ভিড় হবে না। হবে না বই বিক্রি। এত দূরে বইপ্রেমীরা যাবে কী করে?‌ যানবাহন পাওয়া যাবে না। জায়গাও কম। সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে, দু’‌বছর ধরেই। গতবারই মেলায় মানুষ উপচে পড়েছিল। দূরদূরান্ত থেকে যাঁরা ছুটে আসছেন, তাঁরা বইয়ের কাছেই আসছেন। সে বড় প্রকাশকই হোক আর লিটল ম্যাগাজিনই হোক। বইমেলায় এখন আর বই চুরি হয় না, বই নিজেই পাঠকদের মন চুরি করছে বেশি।

জনপ্রিয়

Back To Top