কয়েক মাস আগেই রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে বিজেপি–‌কে হারিয়ে রাজ্য শাসনের দায়িত্ব পেয়েছিল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হন অশোক গেহলট, কমল নাথ ও ভূপেশ বাঘেল। তার আগে গুজরাটেও বিজেপি–‌র বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকেনি, ফল হয়েছিল ৯৯–‌৮০। এই চার রাজ্যের ফল কংগ্রেসকে চাঙ্গা করেছিল, উৎসাহিত করেছিল বিরোধীদের। লোকসভা ভোটে দেখা গেল, কংগ্রেস চার রাজ্যে বিধ্বস্ত। মনে রাখতে হবে, মাঝে কর্ণাটকেও হতাশ হয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস ও জেডিএস জোট সরকার ক্ষমতায়। শরিক দলের চেয়ে বেশি আসন পেয়েও, জেডিএস–‌এর এইচ ডি কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে আনার প্রস্তাব দিতে দেরি করেনি কংগ্রেস। তিন রাজ্যে জয়ের পরও কেন লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যস্ত হল কংগ্রেস?‌ বলা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীরা প্রতিশ্রুতি পালনে তৎপর হননি। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছেলেকে এমপি করার জন্য যতটা পরিশ্রম করেছেন, দলের জয়ের জন্য তার কাছাকাছিও করেননি। আসল কথা, কেন্দ্রের ভোট হয় কেন্দ্রীয় ইস্যুতে। রাজ্যগুলোয় মোদি–‌ঝড় কাজ করেনি, উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারের চেয়ে মানুষ ভেবেছেন রাজ্যের উন্নয়নের কথা। ইস্যু আলাদা। কর্ণাটক, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে সরকার ফেলতে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি। বিশেষত কর্ণাটকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা সরকার ফেলার কাজে নেমেছেন শপথের পরদিন থেকেই। কংগ্রেস ও জেডিএস–‌এর কিছু বিধায়ককে বিপুল অর্থের টোপ দেওয়া হয়েছে। লোকসভা ভোটে কর্ণাটকেও বিপুল সাফল্য। ইয়েদুরাপ্পা তৎপর হলেন। এরই মধ্যে হল পুরভোট। প্রায় ১৪০০ আসনের মধ্যে ৫০০–‌ও ছুঁতে পারল না বিজেপি। আলাদা লড়েও যথেষ্ট আসন পেল কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ ভোট।

জনপ্রিয়

Back To Top