অসমে নাগরিকপঞ্জির নামে যে–‌অসভ্যতা হচ্ছে, তার ইতিহাস দীর্ঘ। বহুকাল আগে–‌আসা মানুষদের রাজ্য ছাড়া করার চক্রান্ত। শুরুতেই কোণঠাসা করার চেষ্টা। কুখ্যাত ‘‌বঙ্গাল খেদা’‌ আন্দোলন। বাংলা ভাষার ওপর আক্রমণ। ১৯৬১ সালের ১৯ মে শহিদ হয়েছিলেন ১১ বঙ্গসন্তান, শিলচরে ভাষা শহিদ স্মারকের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে শোকে, গর্বে মাথা নিচু হয়ে আসে। ১৯৮৫ সালে সঙ্কীর্ণতাবাদী অগপ–‌কে তুষ্ট করতে রাজীব গান্ধীর অসম চুক্তি। নাগরিকপঞ্জির নাম করে বাঙালি বিতাড়নের চেষ্টাও হঠাৎ আজ দেখা যাচ্ছে, তা নয়। ২০০৯ সালে কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এই উদ্যোগে গতি আনার কাজে হাত দেন। তাঁর বড় দুঃখ, তিনি পিতা, কিন্তু ‘‌পালক পিতা’‌ অমিত শাহ কৃতিত্ব নিয়ে চলে যাচ্ছেন!‌ অগপ মাঝে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃতীয় শিবিরে এসে গায়ের কালো দাগ মোছার চেষ্টা করেছিল। এখন, আবার, ক্ষমতায় ফেরার ক্ষীণ আশায় পুরনো অবস্থানে মুখর। অগপ–‌রই প্রাক্তন নেতা সর্বানন্দ সোনোয়াল এখন অসমের মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপি–‌র পতাকা হাতে নিয়ে। কংগ্রেসের ভূমিকা অনেক সময়েই অগপ–‌র কাছাকাছি। রাজনৈতিক ক্ষমতার যুদ্ধে লড়াই থাকলেও, ভাবনাচিন্তায় অসম কংগ্রেস অগপ–‌র কাছাকাছিই, বাঙালি বিরোধিতার ক্ষেত্রে। বিজেপি ক্ষমতায় এসে নতুন কী করল?‌ অগপ–‌র ইচ্ছা থাকলেও অত ক্ষমতা ছিল না। কংগ্রেসের ইচ্ছা থাকলেও সর্বভারতীয় বাধ্যবাধকতায় কিছু কুণ্ঠা ছিল। বিজেপি–‌র সে দায় নেই। বরাক উপত্যকায় বিজেপি–‌র যাঁরা জন–‌প্রতিনিধি, তাঁদের ভূমিকা কী?‌ বক্তব্য কী?‌ কাছাড়ে গিয়ে জানা গেল, কেউ স্পষ্টভাবে দলপন্থী, কেউ একটু দ্বিধায়। অন্য মত প্রকাশের সাহস নেই, তবে কেউ কেউ ব্যক্তিগত আলোচনায় বলছেন, যা হচ্ছে ঠিক হচ্ছে না। বাঙালি হয়েও প্রতিবাদ করতে না পেরে খারাপ লাগছে। নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় সমিতির সংগঠকদের জিজ্ঞেস করলাম, এখন একজনও কি নেই বিজেপি–‌র, যিনি অসমিয়া–‌বাঙালি ঐক্যের কথা বলেন?‌ ওঁরা নিরুত্তর। অসহায় ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলাম, জীবনের শেষ পর্বে ভূপেন হাজারিকা তো বিজেপি–‌তে নাম লিখিয়েছিলেন। তিনিও বাঙালি–‌বিদ্বেষী?‌ উত্তর এল তৎক্ষণাৎ, না। তিনি তো নেই। থাকলে, প্রতিবাদ করতেন। চিরকাল অসমিয়া–‌বাঙালি ঐক্যের কথা বলে গেছেন। বিশ্বাস করতেন, মানুষ মানুষের জন্য।‌

জনপ্রিয়

Back To Top