বিচক্ষণ নেতা করুণানিধি অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলেন, তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি হতে পারেন স্ট্যালিনই। মেয়ে কানিমোঝিকেও বিশ্বাসযোগ্য মনে করতেন করুণা, কিন্তু স্ট্যালিন যে আরও বেশি উপযুক্ত, জানতেন। স্ট্যালিন হয়েছেন চেন্নাইয়ের মেয়র, পরে তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করুক ছেলে, চেয়েছেন অবিসংবাদিত নেতা। একইসঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়েছেন। বড় ছেলে আলাগিরি রাজ্যের একাংশে জনপ্রিয়। কিন্তু মাথা গরম, অসংখ্য বিতর্কিত সঙ্গী। বাবার বিরুদ্ধেই কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। বেলুন চুপসে যায় এক সপ্তাহেই। প্রবীণ জননেতা কোনও সংশয় রাখেননি। স্ট্যালিনকে করে দিয়েছিলেন ডিএমকে–র কার্যনির্বাহী সভাপতি। সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন মাথার ওপরে, তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে দল চালিয়েছেন স্ট্যালিনই। আলাগিরি নিশ্চয় অপেক্ষায় ছিলেন। কবে পিতা প্রয়াত হবেন, শূন্যতা তৈরি হবে, মাথাচাড়া দিয়ে গোলমাল পাকাবেন। চেষ্টা শুরু হয়ে গেল। এখনও শোকের আবহ, আলাগিরি বলে দিলেন, আত্মীয়স্বজন ও দলের লোকেরা তাঁকেই পছন্দ করেন। ডিএমকে ঠিকঠাক চলছে না। এবার তিনি নামতে চান আসরে। দেখুন না কী হয়!‌ হুমকি। তামিলনাড়ুতে এমনিতেই বদলের হাওয়া জোরদার। এআইএডিএমকে সরকার ব্যর্থ। পালানিস্বামী ও পনিরসেলভমের দ্বন্দ্ব প্রকট। এমনিতেই হারতে হত, কোন্দলের জন্য বিপর্যয় অনিবার্য। রজনীকান্ত ও কমল হাসন রাজনীতিতে এসে গেছেন। সংগঠন দানা বাঁধেনি। কমল হাসন সরাসরি বিজেপি–‌বিরোধী, রজনীকান্তকে সামনে রেখে আসন কুড়নোর পথ খুঁজছেন অমিত শাহরা। সন্দেহ নেই, ২০১৯ ভোটে লোকসভার ৩৯–‌এর মধ্যে প্রায় সব আসনই পাবে ডিএমকে। আলাগিরি কি বিজেপি–‌র আশায় বসে আছেন?‌ যদি তেমন কিছু হয়ও, বিজেপি বা আলাগিরির লাভ হবে না। ডিএমকে একদা বিজেপি–‌র সঙ্গে ছিল। ভবিষ্যতে আবার আসতে পারে, ভাববেন বিজেপি নেতারা। পরিত্যক্ত আলাগিরিকে ছুঁয়ে দেখবেন কেন ওঁরা? আলাগিরির মনে অনেক জ্বালা। সুপ্ত নয়, তিনি ‘‌মৃত’‌ আগ্নেয়গিরি। স্ট্যালিনের সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ, আলাগিরি তথা জ্বালাগিরিকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়া।

জনপ্রিয়

Back To Top