বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে যখন হত্যা করা হয়, কন্যা শেখ হাসিনা তখন বিদেশে। না হলে, তাঁকেও খুন হতে হত। ক্রমশ শেখ মুজিবের যোগ্য উত্তরাধিকারী হয়ে উঠলেন হাসিনা। শুধু আক্রান্ত আওয়ামি লিগকে নেতৃত্বই দিলেন না, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপযুক্ত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। এবার অভূতপূর্ব বড় জয়। একতরফা জয়। বিএনপি নেতারা বলছেন, ঠিকমতো ভোট হয়নি, নিরপেক্ষ সরকারের পরিচালনায় নতুন করে ভোট হোক। জয়–‌পরাজয়ের যা ব্যবধান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত। ঘটনা, লড়াইটা ছিলই না। বুথে বুথে বিরোধীদের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়নি। ভোটের দিন মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। এঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই আওয়ামি লিগের কর্মী। আওয়ামি লিগ সন্ত্রাস করল আর নিহত হলেন সেই দলেরই লোকেরা, কেউ বিশ্বাস করবে না। কেন এমন বিপুল জয় পেল আওয়ামি লিগ?‌ গত দশ বছরের উন্নয়নের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি অনস্বীকার্য। বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি ছিলই, তাকে উচ্চতর জায়গায় নিয়ে গেছেন হাসিনা। বস্ত্রকর্মীদের সুরক্ষা নিয়েও ভেবেছেন ও করেছেন। কৃষিতে অভাবনীয় অগ্রগতি। খাদ্যপণ্যের জন্য আর বিদেশের ওপর নির্ভরশীল নয় বাংলাদেশ। তথ্য ও প্রযুক্তিতেও বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেকটা। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি মুখে এখন কিছু ভাল কথা বললেও, নিষিদ্ধ জামাতের লোকেদের দলীয় প্রতীকে প্রার্থী করেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনার সঙ্গী ছিল, অসংখ্য হত্যায় রক্তাক্ত করেছে হাত, তাদের সঙ্গে প্রকাশ্য বোঝাপড়া বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেননি। কঠোর নেত্রীকে সমর্থন করেছেন গণতন্ত্রপ্রিয় দেশবাসী। ভারতের সাম্প্রদায়িক সরকার চলে যাবে। প্রতিবেশী দেশেও সাম্প্রদায়িক শক্তি পরাজিত। অভিনন্দন, শেখ হাসিনা।

জনপ্রিয়

Back To Top