সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তুমুল হইচই। মুম্বই পুলিশ তদন্তে নামল। প্রাথমিক অনুমান ছিল, আত্মহত্যা। পোষ্ট মর্টেম থেকেও সেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হল। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দাবি (যদিও সুশান্তের থাকা, কাজকর্ম সবই মুম্বইতে)‌, সিবিআই তদন্ত করতে হবে। প্রয়াত অভিনেতার বাবা এবং দিদিরা বললেন, হত্যা!‌ কে দায়ী?‌ বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী। নীতীশ কুমার, বিজেপি–‌রও চোখ বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিকে। বিহারের ভূমিপুত্র সুশান্ত, এই আবেগকে উসকে দিয়ে ভোট কুড়নোর চেষ্টা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী চাননি, আদালতের নির্দেশ আসেনি, সিবিআই তদন্ত ঘোষিত হয়ে গেল। হ্যাঁ, প্রথম কারণ অবশ্যই বিহারের ভোট। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, শিবসেনা–‌এনসিপি–‌কংগ্রেস জোট সরকারকে বিপাকে ফেলার অপচেষ্টা। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের পুত্র আদিত্য ঠাকরেকে জড়ানোর চেষ্টা করল বিজেপি, তুমুল প্রচারক কুখ্যাত চ্যানেল। তৃতীয় টার্গেট, রিয়া চক্রবর্তী, বঙ্গতনয়া। কুৎসিত প্রচার শুরু হল, বাঙালি মেয়েরা ‘‌ডাইনি’,‌ ভয়ঙ্কর। রিয়া আত্মহত্যায় প্রত্যক্ষ প্ররোচনা দিয়েছেন ( সেদিন ছিলেনই না সুশান্তের বাড়িতে)‌, নায়কের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা সরিয়েছেন ইত্যাদি কুৎসা। কী দাঁড়াল?‌ এইমস–‌এর টিম পরীক্ষা করে জানিয়ে দিল, বিষ নয়, আত্মহত্যারই সম্ভাবনা প্রবল। সিবিআই নীরব। কেন্দ্রের নির্দেশে নামল ইডি। আর্থিক অভিযোগ প্রমাণ করা গেল না, এক টাকাও সরাননি রিয়া। চুপ। নামল নার্কোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো, যঁাদের ওপর রাগ আছে, এমন কয়েকজন অভিনেত্রীকে জেরা। অপপ্রচার। রিয়ার কাছ থেকে কোনও মাদক পাওয়া যায়নি, এক ছটাকও না। তদন্ত থেকে একটা জিনিসই বেরিয়ে এল, বহুদিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিলেন সুশান্ত। যঁাকে আইকন বানাতে চাইছেন বিহারের শাসকরা।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top