এবারের বইমেলা শেষ হল। বাঙালির নতুন উৎসব, নতুন মানে খুব নতুন নয়। যখন শুরু হয়েছিল ময়দানে, অল্প প্রস্তুতি আর অনেক আবেগ নিয়ে, তারপর বেশ কিছু বছর কেটে গেছে। ক্রমশ ময়দানেই মহীরুহ হয়ে উঠল কলকাতা বইমেলা। আগুন বন্ধ করতে পারেনি। মামলার জেরে চনমনে ময়দান থেকে সরে এল উৎসব। মিলনমেলা প্রাঙ্গণ থেকেও সরে আসতে হল এবার, কারণ, মিলনমেলা নতুনভাবে গড়ে উঠছে। বিধাননগর সেন্ট্রাল পার্কে কি জমবে?‌ কলকাতার প্রাণকেন্দ্র থেকে আরও বেশি দূরে হয়ে গেল না?‌ রাজ্য সরকারের সর্বাত্মক উদ্যোগে এবং গিল্ড কর্তাদের নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় সফল বই উৎসব। প্রকাশকদের দিক থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, এবার বই বিক্রি বেড়েছে। জনস্রোতের বড় অংশই বই খুঁজতে ও কিনতে এসেছেন। আগের তুলনায় দাম বেড়েছে, তাই বিক্রয়মূল্য বেশি আসছে, সত্যি। বড়জোর ২০ শতাংশ বৃদ্ধিকে দামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায়। এবার সংখ্যার দিক দিয়েও বেশি বই উঠেছে পাঠক–‌ক্রেতার হাতে। ভাবতে ভাল লাগে, এই কয়েক দিনে, এত ভিড়েও, একটাও অনভিপ্রেত ঘটনা সামনে এল না। যাঁরা শুধু বিক্রি করতে নয়, নিজেদের উদ্দীপিত করতে আসেন, সেই লিটল ম্যাগাজিন–‌এর তরুণরা নিজেদের মতো করে উৎসবে মাতলেন। মেলায় মিললেন। রাজ্য সরকার, বিধাননগর পুরসভা ও মেলা–‌কর্তাদের চেষ্টায় ধুলো উড়ল না, পরিচ্ছন্নতার পরীক্ষাতেও সসম্মানে উত্তীর্ণ বইমেলা ২০১৮। কিছু পরিবেশ কর্মী বা পরিবেশ–‌নেতার মামলার জেরেই ময়দান থেকে সরে এসেছিল বইমেলা। বাধ্য হয়েছিল। সেই দিক থেকেই এবারও উঠছে মৃদু আওয়াজ, কিছু অসহায় প্রাণীর পক্ষে প্রবল ক্ষতিকারক বইমেলার হইচই, উজ্জ্বল আলো। দয়া করে আদালতে যাবেন না। পরিবেশের লড়াই নিশ্চয় লড়বেন। সামাজিক দায়িত্ব। কিন্তু বইমেলাকে বাঁচিয়ে রাখাও সামাজিক দায়িত্ব। পরামর্শ থাকলে দিন। বইমেলা বন্ধ করাকে দায়িত্ব মনে করবেন না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top