মনের মিল, মতের মিল নিয়েই জোট হয়— আমরা অন্তত সেরকমই দেখেছি। কিন্তু রাজনীতিতে সবই সম্ভব, বিজেপি–‌শিবসেনার জোট দেখে সব হিসেব উল্টেপাল্টে যাচ্ছে। 
যঁারা মনে করেন মহারাষ্ট্রে এই দুটো দলকে অন্তত হিন্দুত্বের আঠায় জুড়ে দেওয়া যাবে, 
তঁারা ভুল করছেন। তৃণমূলস্তরে এদের সম্পর্ক সাপে–‌নেউলে, তীব্র ঘৃণার। বালাসাহেব ঠাকরের রাজনীতি দঁাড়িয়েছিল মারাঠি অস্মিতা আর স্বাভিমানের ভিত্তিতে। ‘‌মারাঠি মানুষ’‌–‌কে বালাসাহেব সবার ওপরে ঠঁাই দিতেন। সেই আত্মাভিমানেই প্রবল ধাক্কা দিয়েছেন মোদি–‌শাহের গুজরাটি জুটি। গতকাল পর্যন্ত শিবসেনা মোদিকে গালাগাল আর রাহুল গান্ধীকে সমর্থন করে গেছে। আজ হতাশ ও ক্ষিপ্ত শিবসেনা ক্যাডারদের পক্ষে বিজেপি–‌র জন্য প্রচার করা সম্ভব?‌ বিজেপি–‌র প্রতি বিরক্ত শিবসেনা সমর্থকরাই বা দলে দলে ভোট দিতে যাবেন কেন?‌ ২০১৪ সালে দেশজুড়েই প্রবল মোদি–‌হাওয়া ছিল, আজ সেই হাওয়া উধাও। সেবার ২৪ আসনে লড়ে বিজেপি জিতেছিল ২৩টি, শিবসেনা ২০টিতে লড়ে ১৮। এই সংখ্যার ধারেকাছে যাওয়া অসম্ভব। এই জোট মোট ২০টি আসন পেলেও বড় সাফল্য ধরতে হবে। মহারাষ্ট্রে মারাঠি অস্মিতার প্রতীক এখন শারদ পাওয়ার, রাজ ঠাকরে যঁার হাত ধরেছেন। বিজেপি–‌কে সুযোগ বুঝে ধাক্কা দিতে শারদকে সমর্থন দিতে পারেন উদ্ধব ঠাকরে, সেতুবন্ধন করতে পারেন রাজ। আর একটা সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়ার নয়, মোদি–‌শাহ জুটিকে উপড়ে ফেলতে নীতিন গাডকারিকে নেতৃত্বে আনার দাবি তুলতে পারে শিবসেনা। ভোটের পর শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, মহারাষ্ট্রেও নজর রাখুন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top