কখনও কখনও ট্রেন দুর্ঘটনা হয়। মর্মান্তিক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, রেলকর্মীদের গাফিলতি দায়ী নয়। দেশের ‘‌লাইফলাইন’‌ বলা হয় ভারতীয় রেলকে। এবার, ভাইরাস সঙ্কটের সময়ও আমরা রেলকর্মীদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ছবি দেখলাম। যাত্রিবাহী ট্রেন বন্ধ হলেও, দেশের নানা প্রান্তে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য চলেছে মালগাড়ি। নানা স্তরের কর্মী, অফিসাররা অক্লান্ত। অভিনন্দন। কিন্তু, রাজনৈতিক নেতৃত্ব অমানবিক আচরণ করছে। ভারতবর্ষ নানা সময় পেয়েছে লালবাহাদুর শাস্ত্রী, মাধবরাও সিন্ধিয়া, লালুপ্রসাদ যাদব ও মমতা ব্যানার্জির মতো দরদি ও দক্ষ রেলমন্ত্রীদের। বর্তমান মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল যা করছেন, তা কি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত?‌ সম্ভবত আরও ওপরের স্তরের রাজনৈতিক ছক, সঙ্কীর্ণ ও অমানবিক। ২৪ মার্চ রাতে লকডাউন ঘোষণার সময়ে, ৪ ঘণ্টার নোটিসে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ট্রেন, বাস চলবে না। যে যেখানে আছেন, থাকুন। আটকে পড়লেন শিক্ষা, চিকিৎসার জন্য যাওয়া বহু লোক। এবং আট কোটি পরিযায়ী শ্রমিক। আশা ছিল, তঁাদের খাওয়া–‌থাকা ইত্যাদির ন্যূনতম ব্যবস্থা করার জন্য রাজ্যকে অর্থ বরাদ্দ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্ধভুক্ত, অসহায় শ্রমিকরা কয়েকশো মাইল হেঁটে বাড়ির পথ ধরলেন। মৃত্যু শতাধিক, পথেই, অসুস্থ হয়ে, দুর্ঘটনায়। দিল্লি বাহাদুরের সিদ্ধান্ত, চালাও ট্রেন, ফেরাও পরিযায়ী শ্রমিকদের। অপরিকল্পিত। ভয়ঙ্কর। উদাহরণ, বাংলা। সংক্রমণ যখন কিছুটা সামলে নেওয়া যাচ্ছে, তখনই, কয়েক দিনে কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে ফেরানো হল। ‌‌আমফানে বিপর্যস্ত বাংলাকে প্রত্যক্ষ আক্রমণ। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সম্ভব?‌ ঘরে পৌঁছে দেওয়া সহজ?‌ কেরলের অর্থমন্ত্রী টমাস আইজ্যাক বললেন, সংক্রমকের ভূমিকায় কেন্দ্র। তবু, বাংলার সিপিএম নেতা বললেন, দোষ রাজ্যের!‌ ভাবা যায়?‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top