বাগ্মী হিসেবে তাঁর খ্যাতি শুধু রাজ্যে নয়, দেশেও। যখন বিধায়ক ছিলেন, সবাই মানতেন, বিধানসভার অন্যতম সেরা বক্তা তিনি। বিরোধী বিধায়ক, কিন্তু তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীরা প্রত্যেকটি বাক্য মন দিয়ে শুনতেন, উত্তর দিতে হবে তো!‌ এক মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছিলেন, ‘‌ওঁর বক্তৃতা শুনে জানা যায়, শেখা যায়।’‌ এমনও হয়েছে, বিধানসভায় এসে জানতে পারলেন, আধঘণ্টা পরেই তাঁকে বলতে হবে। বিষয়টা কী, তা–‌ও শুনলেন তখনই। কয়েক মিনিট ভাবলেন। তারপর যে–‌বক্তৃতা দিলেন, কারও বোঝার উপায় ছিল না যে, প্রস্তুতির সময় পাননি। প্রথমত, সব বিষয়ে যথেষ্ট জানতেন। দ্বিতীয়ত, প্রস্তুতির অভাব ঢেকে দিতেন অসাধারণ বাগ্মিতায়। সেই তিনি, যখন লোকসভায়, একইরকম সফল, একইরকম সক্রিয়। ৪২ বছর আগে যখন নিতান্তই তরুণ, উদীয়মান, মন্ত্রী হয়েছিলেন চরণ সিং সরকারে। সেই সরকার টেকেনি, সৌগতও মন্ত্রী থাকেননি। পরে আবার সরকারে, ইউপিএ জমানায়। মন্ত্রী হিসেবে দক্ষতা প্রশ্নাতীত। গত পাঁচ বছরে মাত্র কয়েকজন বিরোধী সাংসদই তটস্থ রেখেছেন মোদি সরকারকে। তাঁদের মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবেই সৌগত রায়। গোটা রাজনৈতিক জীবনে সঙ্ঘ পরিবারের বিষাক্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন। এত ভাল বক্তা মানে কি এই যে, এটাই তাঁর একমাত্র পরিচয়?‌ না, নিজের লোকসভা কেন্দ্রে ক্লান্তিহীন। মানুষ তাঁকে কাছে পায়, এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও। এলাকায় কত সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে কীভাবে হাজির থাকেন, তিনিই জানেন। কেউ বলতে পারেনি, সাংসদ হিসেবে সামান্যতম নিষ্ক্রিয়। রাজনীতিক, সাংসদ। লেখাপড়াও করে চলেন। ভাল বই পেলেই পড়ে ফেলেন। ভাল নাটক?‌ দেখতে যাবেনই। সম্মান পাওয়ার মতোই মানুষ, শুধু তীক্ষ্ণ নন, শুধু বাগ্মী নন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top