জেসি ওয়েন্স, কার্ল লিউইস। অ্যাথলেটিক্স–‌এ তাঁদের সময়ে ‘‌দ্রুততম মানুষ’‌ হিসেবে কিংবদন্তি। ওয়েন্সের ঐতিহাসিক সাফল্য বার্লিন অলিম্পিকে বৈষম্যবাদী হিটলারের সামনে। লিউইস শুধু স্বল্পপাল্লার দৌড়ে নয়, ব্রড জাম্প–‌এও সোনা পেয়েছেন। বিশ্বের সর্বকালের ‘‌দ্রুততম মানুষ’‌ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন উসেইন বোল্ট। ৮টা অলিম্পিক সোনা তাঁর দখলে, রিলে রেস–‌এ এক সঙ্গী নিষিদ্ধ ড্রাগ–‌এর দায়ে পরে দোষী প্রমাণিত না হলে সংখ্যাটা ৯ হত। সেই বোল্ট তুঙ্গে থাকার সময়েই বলতে থাকেন, অবসরের পর ফুটবল খেলবেন, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে। যেন দ্রুতগামী হলেই দুর্ধর্ষ ফরোয়ার্ড হওয়া যায়। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড অনেক দূরে, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ডিভিশন দলেও ট্রায়াল দিয়ে ব্যর্থ হন। সুযোগ পাননি। অত সোজা নয়। এই সম্পাদকীয়তে অবশ্য বোল্ট নয়, আমরা বলছি জব্বলপুরের রামেশ্বর গুর্জরের কথা। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সম্প্রতি ফেসবুকে ছবি দিয়ে তোলপাড় ফেলে দেন, জব্বলপুরের রামেশ্বর ঠিক ১১ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়চ্ছেন, খালি পায়ে। আবেদন, সুযোগ দেওয়া হোক, রানিং শু ইত্যাদি, নিশ্চয় দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন, সাই–‌এ ব্যবস্থা করে দেন। মধ্যপ্রদেশ সরকার এগিয়ে আসে। রামেশ্বর বললেন, ‘‌রানিং শু পেলে, কিছুদিন অনুশীলন করলেই, অলিম্পিক মেডেল পাব। বোল্টের ১০০ মিটারে রেকর্ড ৯.‌৫৮ সেকেন্ড, সেটাও ভেঙে ফেলতে পারব!’‌‌ স্বল্পপাল্লার দৌড়ে .‌০১ সেকেন্ড কমলেও বড় ব্যাপার। রানিং শু পরে ভোপালে সাই–‌এর প্রতিযোগিতায় ৭ জনের মধ্যে পেলেন সপ্তম স্থান। সময়, ১২.‌৯ সেকেন্ড। ১১ সেকেন্ড কি ঠিকঠাক স্টপওয়াচ, নিয়ম মেনে এসেছিল?‌ খালি পায়ে দৌড়েও বেশ ভাল, উৎসাহিত করা উচিত। কিন্তু, কেউ কি তাঁকে বলেছিলেন, বেশি কথা বলতে নেই, বোল্ট, ৯.‌৫৮, এসব কী?‌

জনপ্রিয়

Back To Top