যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপিকা মেরুনা মুর্মু। ভাল পড়ান। ভাল লেখেন। সম্প্রতি মত প্রকাশ করেছিলেন, জয়েন্ট এন্ট্রান্স ও নিট পরীক্ষা কিছুদিন পরে নেওয়া ভাল। এখন ঝঁুকি। এই বক্তব্য বহু ছাত্রছাত্রীর, শিক্ষকদের, অভিভাবকদের। ৪০ শতাংশ পড়ুয়া পরীক্ষা দিতেই পারলেন না। তবু, বেছে বেছে আক্রমণ করা হল মেরুনাকে। কেন?‌ যেহেতু তিনি উচ্চবর্ণের কেউ নন। মেরুনার বাবা ছিলেন প্রথম সঁাওতাল আইএএস অফিসার। এজন্য যেমন শ্রদ্ধা পেয়েছেন, পাশাপাশি অপমানিতও কম হননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেথুন কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী বললেন, এরা চাকরি পায় কোটা সিস্টেম–‌এ। ছাত্রীটি জানেন না, মেরুনা কত যোগ্য অধ্যাপিকা। বিদ্বেষমূলক মনোভাব থেকেই এমন বক্তব্য, সন্দেহ নেই। বেথুন কলেজের কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রধান, ছাত্রী সংসদের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা করেছেন। ‘‌ভুল হয়ে গেছে’‌ বলে কি ক্ষমা চাইলেন ছাত্রীটি?‌ বোঝাই যায়, কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক। হতে পারেন। প্রতিক্রিয়াশীল দলেরও সমর্থক থাকেন অনেকে। কিন্তু এমন বিদ্বেষ ছড়ানোর পরে সমালোচনা শুনে সংযম আশা করা গিয়েছিল। প্রথমত, এক ঝঁাক বার্তা ছড়ানো হল ছাত্রীটির বক্তব্যের সমর্থনে। কোন ইতিবাচক পটভূমিকার জন্য দেশে সংরক্ষণ ব্যবস্থা আছে, জানেন না। সংরক্ষণ নয়, এমনিতেই যোগ্য হিসেবে উঠে আসেন অনেকে, কিছু লোক জানেন না। অধ্যাপিকা মেরুনা মুর্মু প্রথম দিকে অভিযোগ দায়ের করেননি। ছাত্রীটি দুঃখপ্রকাশ করবেন, আশা করেছিলেন। এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, সামাজিক ক্ষত কত গভীর। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ার অঙ্গীকার করি।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top