‌তাঁর ইচ্ছা
তাঁর ইচ্ছা। তিনি চান, তাঁর ইচ্ছামতো চলুক রাজ্য। চান, নির্বাচিত সরকারের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেতে। চান প্রচার। ধন্যি রাজ্যপাল, টুইট করে করে হাত ব্যথা হয় না। গোলমাল পাকাতে চেয়েছিলেন রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে। বলেন, বাজেটে কী থাকবে জানাতে হবে তাঁকে। অর্থমন্ত্রী, পরিষদীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে আসেন, সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় বাজেট রাষ্ট্রপতিকে আগে দেখানো হয় না, রাজ্য বাজেট রাজ্যপালকে আগে দেখানো হয় না। বলতে থাকলেন, আগেরদিন বিশ্বভারতীতে গিয়ে বলে এলেন, আইন মানব, কিন্তু ভাষণের সঙ্গে নিজের টিপ্পনী জুড়ব। তৈরি হবে ইতিহাস। না। শেষ পর্যন্ত রাজ্যের তৈরি ভাষণ হুবহু পড়েছেন। টিপ্পনী নেই। ভাষণের পর স্পিকারের ঘরে গিয়ে চা–‌পান করেছেন। বাজেট পেশ হল। তাঁর টুইট, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা সম্প্রচার হল, কিন্তু আমার ভাষণ সম্প্রচারিত হয়নি। ভেরি ব্যাড। ‘‌ভেরিগুড’‌ রাজ্যপাল মহোদয়কে দুটো কথা বলার আছে। এক, আর কোনও রাজ্যপাল কি তাঁর মতো বলেছেন, টিপ্পনী জুড়ব?‌ কেউ বলেছেন, বাজেট দেখাতে হবে?‌ কেউ বলেছেন ‘‌ইতিহাস’‌ তৈরি করবেন?‌ উল্টোপাল্টা বলতে চাইবেন, আগে থেকে গন্ডগোল পাকানোর কথা বলবেন, তবু মিডিয়ায় সম্প্রচারের সুযোগও দেবেন, বড় বেশি আবদার হয়ে গেল না?‌ দুই, রাজ্যপালের ভাষণ তো তৈরি করে দেয় রাজ্য সরকার। থাকে সরকারের কাজের এবং পরিকল্পনার খতিয়ান। খবরের কাগজে থাকে, সবাই জানার সুযোগ পান। বাজেট ভাষণে থাকে নতুন প্রকল্পের ও আয়ের ঘোষণা। মানুষ সাগ্রহে অপেক্ষা করেন। টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে, কান খোলা রেখে, জানেন। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণ একটা প্রথা ছাড়া কিছু নয়। বাজেট এক বছরের সরকারি প্রকল্পের এবং আয়ব্যয়ের ঘোষণা। সম্প্রচার তো হবেই। তাঁর ইচ্ছা পূরণ হত, যদি গোলমাল পাকানোর কথা না বলে যেতেন।   ‌

জনপ্রিয়

Back To Top