শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিশ্চয় বিখ্যাত নেতা। কয়েক মাস আগেই কলকাতায় তঁার মূর্তিতে কালি দিয়েছিল বামপন্থী র‌্যাডিক্যাল সংগঠনের কর্মীরা। পুরসভা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, রাজ্য সরকারের স্পষ্ট মত ছিল। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্র‌ত্যাহারের পর বিজেপি জোরদার প্রচারে নেমেছে, যা শ্যামাপ্রসাদ চেয়েছিলেন, তা এতদিনে হল, শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন পূরণ করলেন নরেন্দ্র মোদি। এই বিখ্যাত নেতা সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলা দরকার, যা অপ্রিয় হলেও সত্যি। তঁার বাবা স্যর আশুতোষ শুধু ‘‌বাংলার বাঘ’‌ ছিলেন না। সংস্কৃতির প্রসারে, হাইকোর্টের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হিসেবে আইনের ক্ষেত্রে, সমাজজীবনে স্মরণীয় কাজ করে গেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে বাংলায় স্নাতকোত্তর পড়ানোর ব্যবস্থা করেন। কিছু বিশিষ্ট বাঙালিই বিরোধিতা করেন। বলেন, বাংলায় আবার এমএ কী!‌ রবীন্দ্রনাথ পাশে দঁাড়িয়েছিলেন স্যর আশুতোষের। এমন সফল উপাচার্যের পুত্র শ্যামাপ্রসাদ উপাচার্য হয়েছেন, কিন্তু অভিযোগমুক্ত ছিলেন না। কোনও স্থায়ী অবদান নেই। স্বাধীনতার আগে, বাংলায় সরকার গড়েছিলেন ফজলুল হক। সেই সরকারে ছিল মুসলিম লিগ এবং তাতে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ!‌ কাশ্মীরে গিয়ে তঁাকে গ্রেপ্তার হতে হয়, মৃত্যু হয় জেলেই, ঘটনা। কিন্তু একটা তথ্য জানা নিশ্চয় জরুরি। সংসদে প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সঙ্গে তঁার তর্কবিতর্ক উত্তপ্ত ছিল। কিন্তু, পরে জনসঙ্ঘ গড়লেও, আগে তিনি ছিলেন নেহরু সরকারে। সেই সরকার যখন কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা অন্তর্ভুক্ত করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, সেই সরকারে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। এবং সেই ইস্যুতে তিনি ইস্তফা দেননি। ইতিহাস।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top