ভোর। মালগাড়িতে চাপা পড়ে মৃত্যু হল ১৬ পরিযায়ী শ্রমিকের। মহারাষ্ট্রের জালনা থেকে যাচ্ছিলেন ১৫০ কিলোমিটার দূরে ঔরঙ্গাবাদ স্টেশনের দিকে, যেখান থেকে মধ্যপ্রদেশ যাওয়ার কথা বিশেষ ট্রেনের। ৪৫ কিলোমিটার হাঁটার পর, রাত হয়ে গেছে, পরিশ্রান্ত শ্রমিকরা শুয়ে পড়লেন রেললাইনের ওপর। ভেবেছেন, এখন তো ট্রেন চলছে না। ঘটনা তা নয়, মালগাড়ি চলছে, অত্যাবশ্যক পণ্য দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ভেবেছিলেন, একটু বিশ্রাম নিয়ে, ফের হাঁটতে শুরু করবেন। কয়েকটা রুটি খেয়েছেন রাতে, কয়েকটা রুটি ছিল দিনে খাওয়ার জন্য। মালগাড়ি এখন চলছে যাত্রিবাহী ট্রেনের গতিতে। লাইন ফাঁকা, পণ্য পৌঁছে দিতে হবে দ্রুত। ১৬ জনের শোচনীয় মৃত্যুর দায় কার?‌ জানা গেল, মালগাড়ির চালকের দোষ নেই। যখন দেখতে পেয়েছেন, চেষ্টা করেও থামাতে পারেননি। মহারাষ্ট্রের জালনা থেকে হেঁটে যেতে হচ্ছিল কেন পরিযায়ী শ্রমিকদের?‌ স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না কেন?‌ খবর নাকি ছিল না। ট্রেন ধরতে কতটা পথ যেতে হবে, বাস থাকল না কেন?‌ মধ্যপ্রদেশে ফিরছিলেন অসহায় শ্রমিকরা, সেখানকার সরকার কী করল?‌ দোষারোপের প্রতিযোগিতায় লাভ নেই। আসল কারণটা কী?‌ ৪ ঘণ্টার নোটিসে প্রধানমন্ত্রী যখন লকডাউন ঘোষণা করেন, বলেছিলেন, যে যেখানে আছেন, থাকুন। থাকতে হলে তো, ন্যূনতম খাদ্য ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলোকে সাহায্য করল না। হাত খুলল না। ‘‌মোদি কেয়ার্স’‌–‌এ যা উঠেছে, তা থেকে অনায়াসে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্য দেওয়া যেত। লকডাউন ঘোষণা রাজ্যের সঙ্গে কথা না বলে। ট্রেন চালানোর ঘোষণাও একইভাবে। অমানবিক সরকারই দায়ী।   ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top