ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও সাফাইকর্মীরা এই কঠিন সময়ে যেভাবে লড়ছেন, প্রাণপাত করছেন, তার প্রশংসা করছেন সবাই। কিন্তু, বাস্তবে, কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাও ঘটছে। উত্তরপ্রদেশে এক চিকিৎসক এবং তিন স্বাস্থ্যকর্মী নিগৃহীত হয়েছেন। পুলিশ প্রয়োজনে কঠোর হতে বাধ্য হচ্ছে। বাজারে অকারণে ভিড়, শারীরিক দূরত্ব মানতে অনীহা। কেউ কেউ স্রেফ ‘‌বেড়াতে’‌ পথে, পুলিশ ধরলে কটু কথা। দেশে ১০১টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ডাক্তার–‌নার্স–‌স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থালি–‌তালি দিয়ে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিনন্দন জানাতে বলেছিলেন। অত্যুৎসাহীরা দল বেঁধে পথে নেমে নৃত্য–‌গীত করেছেন, বাজি ফাটিয়েছেন। ডাক্তার–‌নার্স–‌স্বাস্থ্যকর্মীদের যদি আক্রান্ত হতে হয়, যদি বাড়িতে ঢুকতে বাধা পেতে হয়, মনোবল অটুট রাখতে পারবেন?‌ ওঁরা দ্বিগুণ কাজ না করে গেলে, জীবনের ঝঁুকি নিয়ে কর্তব্য পালন না করতে পারলে, মানুষ বাঁচবেন?‌ অবুঝ, অসভ্য কিছু লোক এমন করলে, কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। অন্য রাজ্যে সমস্যা অনেক বেশি। অন্তত এটুকু আশা তো করব, যে, দায়িত্বশীল, গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা বাজে কথা বলবেন না?‌ প্রায় প্রতিদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষে মুখপাত্র হিসেবে টেলিভিশনে আসছেন যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল। কখনও কখনও তাঁর কথায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত নয়। সেই লব আগরওয়ালকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এত ডাক্তার কোভিড–‌১৯–‌এ আক্রান্ত হচ্ছেন, এটা কি দুশ্চিন্তার কারণ নয়?‌ যুগ্মসচিব বলেন, ‘‌কিছু ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছেন চিকিৎসা করতে গিয়ে, কিছু ডাক্তার পার্টিতে গিয়ে।’‌ এই সময় পান ভোজনের আসর কোথায় বসছে?‌ এমন জঘন্য মন্তব্য অমার্জনীয় নয়?‌   ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top