রহস্য তো নেই, বলা যায়। বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় থাকার সূত্রে, বিজেপি দেশে বিরুদ্ধ মত মুছে দেওয়ার, ভিন্ন স্বর থামিয়ে দেওয়ার জন্য ঝাঁপাবে, এর মধ্যে বিস্ময় কোথায়?‌ ইউএপিএ বিল সংশোধন হল, রাজ্যসভাতেও বিল পাশ। কাগজে কলমে রাজ্যসভায় এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ নয় বিজেপি। কিন্তু বিপুল পরাজয়ের পর বিরোধীরা ছত্রভঙ্গ। নিজেদের স্বার্থে সরকার পক্ষকে ভোট দিচ্ছে এবং দিয়ে যাবে কিছু বিরোধী দল। ইউএপিএ এসেছিল ইউপিএ জমানাতেই। কিছু অগণতান্ত্রিক ছাপ অবশ্যই ছিল। অপব্যবহার হয়নি, তা বলা যাবে না। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় সরকার যা করল, তা ভয়ঙ্কর। এনআইএ–‌কে বিশাল অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে মূলগত ভাবেই আইনটাকে পাল্টে দেওয়া হল অনেকখানি। ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর নগ্ন আক্রমণ। রাখঢাক নেই। প্রথমত, বিল পাশ হল, শুধু সংগঠন নয়, ব্যক্তিকেও ‘‌নিষিদ্ধ’,‌ দেশবিরোধী বলে দেওয়া যাবে। অনেক স্বাধীনচেতা, প্রগতিশীল মানুষকে ‘‌দেশবিরোধী’‌ তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, হচ্ছিল। কিন্তু, কিছু বাধা ছিল। আদালতে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ হচ্ছিল না। একজন ব্যক্তি যদি তাঁর মত প্রকাশ করেন, যা সরকারের মন মতো নয়, তাঁকে ‘‌নিষিদ্ধ’‌ ঘোষণা করায় বাধা আসছিল। জনমত সামলানো যাচ্ছিল না। এবার ব্যক্তিকেও (‌মিথ্যা অপবাদে)‌ নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা যাবে। দ্বিতীয়ত, এনআইএ প্রমাণ ছাড়াই, স্রেফ ধারণার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করতে পারবে। তৃতীয়ত, কাউকে ধরতে রাজ্যকে জানাতে হবে না। চূড়ান্ত আঘাত। রহস্যটা কোথায়?‌ এই বিল সমর্থন করল কংগ্রেস!‌ সংসদে বক্তব্য উল্টো, বিলে ভোট। কোনও ব্যাখ্যা আছে?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top