সিনেমা হলের ব্যালকনির আসনটি উঁচু দরের, গাঁটের কড়িও বেশি খসাতে হয়। হোমরা–চোমরা মানুষ ব্যালকনিতে বসে জীবনের বর্ণ–গন্ধ উদ্‌যাপন করেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও ব্যালকনি খুব পছন্দ করেন। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে যাঁরা থালা–ঘণ্টা বাজান, মোম–প্রদীপ জ্বালান— প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জন্য সারাদিন ভাবেন, নিত্যনতুন ইভেন্টের ব্যবস্থা করেন। বিদেশে যাঁরা আটকে ছিলেন, তাঁদের উড়িয়ে এনেছেন, ভাসিয়ে এনেছেন। এবার নতুন কোনও ব্যালকনি–ইভেন্ট দেখবেন নির্ঘাত। ওঁরা অবশ্য দস্তুরমতো বিমানভাড়া দিয়ে ফিরছেন, কোয়ারেন্টিনের খরচও তাঁরাই দেবেন। কিন্তু প্রচারের সুযোগ মোদি ছাড়বেন কেন, নাম দিয়েছেন ‘‌বন্দে ভারত’‌। সংবর্ধনার আয়োজন, হামলে–পড়া মিডিয়ার ছবি তোলা, টুইটে টুইটে মন্ত্রীদের কিচিরমিচির— যেন ভারত বিশ্বকাপ জিতে ফিরছে। বস্তুত দুনিয়ার সব দেশই অন্য দেশে আটকে–পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে, আমাদের কলকাতা থেকেও উড়ান ছেড়েছে— কোথাও এমন ইভেন্ট দেখা যায়নি। অভূতপূর্ব একটি সঙ্কটকেও এমন বিজ্ঞাপনী মোড়ক দেওয়ার ভাবনা যাঁদের মাথায় আসে, ৪৬ দিন তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভাবতেই ভুলে যান। মনের কথা বলেন, ভাষণও দেন, প্রধানসেবক এঁদের কথা বেবাক ভুলে যান। ভুলে যান ঝোলা কাঁধে ফকির সেজে দিল্লির মসনদে বসেছিলেন এঁদেরই ভোট নিয়ে। মাইলের পর মাইল হেঁটে ফিরছেন শ্রমিকেরা, ভ্রুক্ষেপ নেই। যা–ও বা ট্রেনের ব্যবস্থা হল, তার পর ভাড়া নিয়ে বিশ্রী কুটকচালি। রাজ্যে রাজ্যে ঝগড়া বাধিয়ে দিয়ে কেন্দ্র তালি বাজাচ্ছে! মোদির মনে হয়েছে আসল ভারতের অধিষ্ঠান বুঝি ব্যালকনিতেই। আমরা আহত হতে পারি, কিন্তু এক নামজাদা সাংবাদিকের হিসেবমতো বিজেপি ২০১৯ সালের ভোটে ২৭০০০ কোটি টাকা খরচ  করেছিল। অর্থাৎ ভোটপিছু ১২০০ টাকা। ২০২৪ সালে হয়তো ২৪০০ টাকায় দাঁড়াবে। তাই ব্যালকনি থেকে চাঁদা তোলার পালা এখন। গরিব মানুষের জন্য ধর্মের জিগির তুললেই হবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top