সত্তরের জন্মদিন। মাইলস্টোন বইকি। ‘‌নব ভারতের রূপকার’‌ নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে যখন উৎসব করছিলেন বিজেপি নেতারা, দেশের নানা এলাকায় বুক চাপড়ে হাহাকার করছিলেন বেকার যুবকরা। বছরে ২ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, আজ প্রতি মুহূর্তে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য আসছে। কয়েক মাসেই দেশের ৫০ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছেন। অর্থনীতি তলানিতে, মোদি ব্যস্ত লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেচে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর ‘‌মন কি বাত’‌ অনুষ্ঠানের ভিডিওতে যখন ‘‌ডিসলাইক’‌–‌এর বন্যা বয়ে যাচ্ছিল তখন তিনি ব্যস্ত নতুন সংসদ ভবনের চুক্তি নিয়ে!‌ তাঁর মস্তিষ্ক অসামান্য চিন্তা–‌ভাবনার জন্য ইতিমধ্যেই বিখ্যাত, যেমন সরকারি চাকরিতে প্রথম পাঁচ বছর শিক্ষানবিশির বিষয়টি। সরকারি চাকরি জুটছেই না, পরীক্ষা দিয়ে ফলের অপেক্ষায় বয়স পেরিয়ে গিয়েছে লক্ষ লক্ষ যুবক–‌যুবতীর, এখন সরকার বলছে প্রথম পাঁচ বছর চুক্তিতে কাজ করতে হবে, অযোগ্যদের ইচ্ছেমতো বাদ দেওয়া হবে!‌ পাঁচ বছর সরকারি চাকরি করে বাতিল হলে তাঁরা কোন চাকরি পাবেন?‌ জবাব নেই। ইতিমধ্যেই রেল বেচে দেওয়ার ছক তৈরি হয়ে গিয়েছে, বেসরকারি কোম্পানি ইচ্ছেমতো ভাড়া নেবে, অলাভজনক রুটে ট্রেনই চলবে না। ভাবা যায়?‌ রাষ্ট্রের কল্যাণকামী ভূমিকা আর নেই, এখন সুট–‌বুটের লুঠপাটের সরকার। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে বাগাড়ম্বরের অন্ত নেই, কয়েকটি রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্ট নোটিসও দিয়েছে। বাস্তব ছবিটা জেনে রাখুন, তথ্য নিরাপত্তা আইনে জানা গেল,  এই করোনা–‌কালে আয়ুষ্মান কার্ড–‌ধারী মাত্র ১৭ হাজার মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়েছেন। অর্থাৎ চরম ব্যর্থ প্রকল্প, স্রেফ চোখে ধুলো। এবার কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কেড়ে নিয়ে ফসলও শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার ফন্দি। মোদি–‌ভক্তি গ্রামীণ এলাকায় এবার কাজ করবে তো?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top