৬ ডিসেম্বর কাকভোরে (‌রাত তিনটেয়)‌ হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে শামশাবাদে পুলিশের হাতে ‘‌এনকাউন্টার’‌–‌এ নিহত গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ৪ জন। পুলিশ কমিশনার জানালেন, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থলে। ওরা পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে আক্রমণ করে, পাথর ছোড়ে। নিরুপায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় এবং মৃত্যু হয় ৪ জনের। খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই, প্রবল উচ্ছ্বাস বহু মানুষের মধ্যে। হায়দরাবাদে পুলিশকর্মীদের মাথায় ফুল ছড়ানো হয়, রাখি বাঁধেন মহিলারা। রাজ্যসভায় জয়া বচ্চন বলেছিলেন, এ ধরনের অপরাধীদের পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত। সমালোচনা হল, কিন্তু বহু বহু মানুষ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেন। দেশে মহিলাদের ৯৫ শতাংশ বলছেন, ঠিক হয়েছে, উচিত কাজ হয়েছে। ঘৃণ্য অপরাধের পর যদি বা ধরা পড়ে, বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকে। ২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়া কাণ্ড। ফাঁসির দণ্ড হয়েছে, কিন্তু ৭ বছর পরেও তা রূপায়িত হয়নি। মানুষ বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। বিচার প্রক্রিয়ায় যেহেতু দেরি হচ্ছে, দরকার হলে ‘‌এনকাউন্টার’‌–‌এ মেরে ফেলা হোক ধর্ষকদের। স্পষ্ট দাবি। মানবাধিকার সংগঠনের এক নেতা সরাসরি বলেন, পুলিশ ঘটনা সাজিয়ে ‘‌খুন’‌ করেছে ৪ জনকে। কী ঘটেছে, আমরা জানি না। নীতিগত অবস্থানের জায়গা থেকে তাৎক্ষণিক বিবৃতি। ভেবেচিন্তে যাঁরা বিরোধিতা করলেন, তাঁদের বক্তব্যও তীক্ষ্ণ। গণতন্ত্রে বিচারব্যবস্থা আছে, তাকে অগ্রাহ্য করে ‘‌শাস্তি’‌ দেওয়া যায় না। বিচার পাওয়ার অধিকার আছে সব নাগরিকের। দু–‌পক্ষই সহমত, বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তাতে ক্ষোভও জমছে। ঘটনা, সব স্তরের আদালতে লক্ষ লক্ষ মামলা জমে আছে। তুচ্ছ কারণে বা অকারণে যাঁরা মামলা করেন, তাঁদের শাস্তির কথা ভাবা উচিত। বিচারক বা বিচারপতির অভাব গোটা দেশে। কলকাতা হাইকোর্ট শেষ কবে বরাদ্দ সংখ্যক বিচারপতি পেয়েছে, বলা কঠিন। গণতন্ত্রের স্তম্ভ বিচারব্যবস্থা, প্রক্রিয়া দ্রুত করার দায়টাও গণতন্ত্রের। ‘‌শাস্তি’‌ হোক এবং তা দ্রুত।   ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top