অন্তত বিহারে লোকসভা ভোটে আসন–ভাগাভাগি নিয়ে বিজেপি–বিরোধী শিবিরে বিচ্ছিরি দর–কষাকষি হবে না, আশা করা গিয়েছিল। যেভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করে নীতীশকুমার বিজেপি–র দিকে ভিড়ে রাজ্যে সরকার করেছিলেন, বিধানসভা ভোটে ‘‌বিহারি বনাম বাহারি’‌ আওয়াজ তুলে মোদিকে ধরাশায়ী করার পরে মানুষকে ঠকিয়ে মোদিরই সাহায্য নিয়ে গদিতে থেকে গেছেন, ভোলার কথা নয় বিহারবাসীর। নীতীশের বিশ্বাসঘাতকতাই হতে পারত সবচেয়ে বড় ইস্যু। এখনও পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, বিজেপি–কে চেনাজানা পথে আক্রমণ করা হলেও, বিশ্বাসঘাতক নীতীশকুমারকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ করা হয়নি। দেশবাসী নিশ্চিত ছিলেন, বিহারে বিরোধী জোট হবে সবচেয়ে মসৃণভাবে। জোট হয়েছে, মসৃণভাবে নয়। ৪০–এর মধ্যে ১৫ আসন চেয়ে কথা শুরু করেছিল কংগ্রেস। তারপর, ১১। লালুপ্রসাদ–তেজস্বীপ্রসাদ তা–ও দিতে রাজি হলেন না। রাজ্যে কতটুকু জোর কংগ্রেসের, প্রশ্ন উঠল। শেষ পর্যন্ত ৯। ছোট ছোট দল, যাদের ভিত্তি খণ্ড খণ্ড জাতপাতের হিসেব, তাদের দিতে হল ১১ আসন। একজনের কথা কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই আনলেন না। রাহুল গান্ধীর নিশ্চয় মনে আছে, এক তরুণ বামপন্থী নেতা তাঁর সঙ্গে দেখা করে বলে এসেছিলেন, বিজেপি–কে সরাতে লড়ে যাব, কোনও বেড়া থাকবে না। তার আগেই সেই তরুণ আলোড়িত করেছেন গোটা দেশকে, জেএনইউ–এর প্রাঙ্গণে অবিস্মরণীয় বক্তৃতা দিয়ে। বেগুসরাই কেন্দ্রে প্রার্থী হতে প্রস্তুত ছিলেন কানহাইয়া কুমার। গরিব ঘরের সন্তান, মেধাবী ও লড়াকু, ভূমিপুত্র। তাঁর হয়ে লড়লেন না রাহুল। সিপিআই তিনটি আসন চেয়ে জট পাকাল, শুধু বেগুসরাইয়ে কানহাইয়া, বলতে পারল না। বামেদের সঙ্গে জোটই হল না। জোটের প্রার্থী হলে জিততেনই। বেগুসরাইয়ের মানুষের পক্ষে থাকতেনই। এবং লোকসভায় সাম্প্রদায়িকতা–বিরোধী এক সতেজ কণ্ঠস্বর শোনা যেত।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top