‌হরিদেবপুরে ৭২ কাঠা ফঁাকা জমিতে ‘‌নাটক’‌। দিকে দিকে এই বার্তা রটে গেল দ্রুত, প্লাস্টিকের প্যাকেটে পাওয়া গেছে ১৪টি ভ্রূণ বা নবজাতকের দেহ। তোলপাড় হওয়ার মতো খবরই বটে। এমন কিছু ঘটলে, গভীর তদন্ত হতে হবে। কী করে এল এবং এত?‌ ভ্রূণ নিয়ে ভয়ঙ্কর ব্যবসা করছে কারা?‌ দুপুর থেকে হইচই বেশ কয়েক ঘণ্টা। অবশেষে জানা গেল, প্যাকেটে ছিল ডায়াপার, চিকিৎসা বর্জ্য। প্রশ্ন হল, খবরটা ছড়াল কেন?‌ এতই ভিত্তিহীন, যে, ওত–‌পেতে–‌থাকা বিরোধীরাও হইচই করার সুযোগ পেলেন না। তিন–‌চারজন নির্মাণকর্মী প্লাস্টিকের প্যাকেট দেখতে পেলেন। ওঁদের মনে হল, প্যাকেটে আছে ভ্রূণ। জমির দায়িত্বে থাকা উচ্চতর কর্মীরা জানালেন স্থানীয় কাউন্সিলরকে। তঁার মনে হল, যথাস্থানে খবর দেওয়া দরকার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেন মেয়র শোভন চ্যাটার্জি। পুলিসও প্রাথমিক খেঁাজখবর নিয়েই জানাল, পাওয়া গেছে ১৪টি ভ্রূণ বা নবজাতকের দেহ। মেয়র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। বিভাগীয় ডিসি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই বলে দিলেন, হ্যঁা, রয়েছে ভ্রূণ। সন্ধে সাতটার পর সেই পুলিসকর্তাই জানালেন, ভ্রূণ নয়, পাওয়া গেছে ডায়াপার, চিকিৎসা বর্জ্য। ভালভাবে খতিয়ে দেখার আগেই, নিশ্চিত না হয়েই কেন খবরটায় সিলমোহর দিয়েছিল কলকাতা পুলিস, দক্ষতায় যাদের তুলনা করা হয় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে?‌‌ প্রাথমিক ‘‌খবর’‌ পাওয়ার পরেই ঝঁাপিয়ে পড়েছিল সংবাদমাধ্যম, যথারীতি। সংবাদপত্রের তবু হাতে সময় থাকে, পরদিন সকালের কাগজে দিলেই হবে। নিউজ চ্যানেলের দায় প্রতি মুহূর্তে টাটকা খবর জানানোর। ব্রেকিং নিউজ। সংবাদমাধ্যম ঝঁাপিয়ে পড়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা নীরব থাকতে পারেন না। প্রশ্ন উঠবে, বলবেন না কেন?‌ কিছু চেপে যাওয়া হচ্ছে?‌ সেই চাপ এড়ানো উচিত। ঘটনাস্থলেই সাক্ষী রেখে ছবি তোলালে ভ্রূণ নিয়ে ভ্রম হত না। চলুক না গুজব কয়েক ঘণ্টা। তাড়াহুড়োয় বিপদ ডেকে আনার কী দরকার?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top