এখন নরেন্দ্র মোদির সরকারের কাজকর্মে তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। সেদিনই প্রধানমন্ত্রী মার্কিন শিল্পপতিদের কাছে লগ্নির ডাক দিচ্ছিলেন। তড়িঘড়ি জাতীয় শিক্ষানীতি ঘোষণা দেখে মনে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন তিনি। মাথা মুড়িয়ে নেমে পড়েছেন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র ভর্তির কাজে। খুলে বলি। মার্কিন দেশে স্নাতক স্তরের অনার্স বা মেজর পড়তে হয় চার বছর। সুতরাং যে ভারতীয় পড়ুয়ারা উচ্চ শিক্ষা, অর্থাৎ মাস্টার্স করতে আমেরিকা যায়, তাদের প্রথমে এক বছর স্নাতক স্তরের পড়া শেষ করতে হয়। এ দেশের তাবড় ধনী, কর্পোরেট কর্তা, রাজনৈতিক নেতাদের ছেলেমেয়েরা মার্কিন মুলুকে পড়তে যায়, ওই একটা বছর তাদের থাকা–‌খাওয়ার বাড়তি খরচ। মোদি সরকার সেই খরচ কমিয়ে দিচ্ছে, এবার চার বছরের অনার্স শেষ করে ওদেশে সরাসরি মাস্টার্স পড়ার সুযোগ পাবেন। ধনীর স্বার্থ দেখতে গিয়ে গরিবের ঘাড়ে কোপ, বহু হতদরিদ্র পরিবার সন্তানের লেখাপড়ার বাড়তি এক বছরের খরচ টানতে জেরবার হবে। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার কোন কলেজ পদার্থবিদ্যার সঙ্গে ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়ার সুযোগ দিতে পারবে?‌ জনা দশেক অনার্সে সঙ্গীত পড়তে চাইলে আলাদা শিক্ষক, ক্লাসরুমের ব্যবস্থা, পরীক্ষা নেওয়া— এসবের খরচ জোগাবে কে?‌ অর্থাৎ বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেতে বিদেশে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার দিকে ঠেলে দেওয়া হবে প্রকারান্তরে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১২ (‌বি)‌ ধারায় কেন্দ্রীয় অনুদান আসে। এবার এই অনুদান সরাসরি চলে যাবে উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কারণ তারাই এই ধরনের বিচিত্র শর্তপূরণ করতে পারবে।

জনপ্রিয়

Back To Top