এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কী চাইছেন মানুষ?‌ কয়েক মাস ধরে প্রার্থনা, কোভিড–‌১৯–‌এর প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কৃত হোক। এভাবে ভয়ে ভয়ে, ছেড়ে ছেড়ে কতদিন থাকা যায়?‌ অর্থনীতির ওপর প্রভাব মারাত্মক, এর মধ্যেই পরিষ্কার, অদূর ভবিষ্যতে আরও দুঃসময়। সব দেশে। যদি ভয়াল ভাইরাস থেকে রেহাই পাওয়ার পথ না মেলে, কিছুতেই জনজীবন স্বাভাবিক হবে না, অর্থনীতি সচল হবে না, মানুষের জীবিকা সুনিশ্চিত হবে না। এর মধ্যেও যঁারা বেপরোয়া, মাস্ক ছাড়া ঘুরছেন, বাজারে ভিড় করছেন, ঘন হয়ে বসে, দঁাড়িয়ে পাড়ায় আড্ডা মারছেন, তঁারা ভাবছেন, আমাদের হবে না, হলে তো আটকানো যাবে না!‌ কিন্তু ৯০ শতাংশ মানুষ সতর্ক থাকছেন, দূরত্ববিধি মানছেন, মাস্ক পরছেন, হাত ধুচ্ছেন এবং রোজ সকালে উঠছেন এই আশা নিয়ে যে, টিকা আবিষ্কারের সুসংবাদ পাবেন। সারা পৃথিবীতে, ৪০ দেশের অন্তত ১৪০টি জায়গায় বিজ্ঞানীরা গবেষণায় মগ্ন, তাতে জড়িত হাজার হাজার গবেষক। কিছুটা এগোনো গেছে, এই মর্মে প্রথম খবর এসেছিল অক্সফোর্ড থেকে। প্রথম থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে নাকি প্রবেশ করা গেছে। প্রবল আশাবাদীরাও এই বছরের মধ্যে প্রতিষেধক পাওয়ার আশা করেননি। তবু, প্রার্থনা। হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক এবং আইসিএমআর একযোগে গবেষণায় প্রাথমিক স্তর পার হয়েছে। পশু দেহে প্রয়োগের পর, মানব দেহে প্রয়োগের প্রথম স্তরে ঢোকা হবে এ মাসেই। দেখা হবে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা। তারপর, কিছু বেশি মানুষের দেহে প্রয়োগ। তারপর আরও বেশি, তৃতীয় স্তর। তথ্য দেখা হবে। গবেষণা স্বাগত। ভারতও পিছিয়ে নেই, সুখবর। আইসিএমআর–‌এর ডিজি বলরাম ভার্গব জানালেন, কয়েক সপ্তাহে কাজ শেষ করতে হবে, ১৫ আগস্টের মধ্যে। কেন?‌ যাতে ১৫ আগস্টের ভাষণে বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী?‌ বিজ্ঞান রাজনীতির নির্দেশে চলে না। ফাঁকা আশা দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top