কেউ ১৫০, কেউ ২৫০ কিলোমিটার হেঁটে আর পারলেন না। খিদের চাপে, পথের ক্লান্তিতে লুটিয়ে পড়লেন। জীবনাবসান। হায় জীবন!‌ ১৬ জন প্রাণ হারালেন রেললাইনে, অনেকটা পথ হেঁটেছেন। যে–‌স্টেশন থেকে নিজের ঘরে ফেরার ট্রেন ছাড়বে, যাওয়ার ব্যবস্থা নেই!‌ রাতে শুকনো রুটি, পরদিনের জন্য কয়েকটি রুটি, সব পড়ে থাকল, প্রাণ–‌সহ। রেললাইন ধরে হাঁটা, তাতে নিশ্চিন্তভাবে স্টেশনে পৌঁছন যাবে। লাইনের পাশে ঝোপঝাড়, ওঁরা জানতেন না যে মালগাড়ি চলছে, পথশ্রমে ক্লান্ত, ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কেউ প্রাণ হারালেন লরিতে পিষ্ট হয়ে, কেউ দুর্ঘটনায়। পরিযায়ী শ্রমিক। ৪ ঘণ্টার নোটিসে যখন লকটাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী, বলেছিলেন, যে–‌যেখানে আছেন, থাকুন। তাহলে তো খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। কোভিড মোকাবিলা করতে হবে রাজ্যগুলোকে, স্বাস্থ্য ও ত্রাণের যাবতীয় ব্যবস্থা, কেন্দ্রের সাহায্য নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, যে–‌যেখানে আছেন, থাকুন। কিন্তু, কোনও ব্যবস্থা করলেন না, অর্থ বরাদ্দ করলেন না। যে–‌সব রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বেশি, কতটা করতে পারল সংশ্লিষ্ট সরকার?‌ কেরল থেকেও তো ১১০০ শ্রমিক ফিরেছেন বাংলায়, নানা রাজ্যে, আরও যাবেন। হঠাৎ যেমন লকডাউন, হঠাৎই সিদ্ধান্ত, পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে ফিরতে পারেন, ট্রেন চালানো হবে (‌ভাড়া নিয়ে!‌)‌। এক–‌একটা ট্রেনে হাজারের বেশি যাত্রী, স্বাস্থ্যবিধি মানা হল না। এসি ট্রেন, যাতে বেশি ভাড়া মেলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, ওঁরা থাকতে চাইছেন না, ফিরতে চাইছেন। ফিরতে চাইছেন কেন?‌ কারণ, থাকা–‌খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। কেন্দ্র হাত গুটিয়ে।   ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top