‌সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর কলকাতার শীলিত, সুসংস্কৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন দেখে অভিভূত হয়ে ফেসবুকে লিখলেন তসলিমা নাসরিন। প্রশংসা করলেন সংস্কৃতির শহরের চেতনার। একটি সর্বভারতীয় চ্যানেলে এলেন রবীশ কুমার। ম্যাগসাইসাই পুরস্কারে সম্মানিত রবীশ বরাবরই ‘‌দৈত্যকূলে প্রল্হাদ’‌ হিসেবে চিহ্নিত। বলছিলেন, ‘‌সৌমিত্রবাবুর জন্য যে মিছিল হাঁটছিল তা শুধু এক অভিনেতাকে অন্তিম বিদায় দিতেই নয়, আগামীকে স্বাগত জানাবারও বটে। কোন ভবিষ্যতের শিল্পী যদি সৌমিত্রবাবুর মতো সাধনায় মগ্ন হয়ে পড়েন, তবে বাঙালি সমাজ তাঁকে লালন করবে।’‌ বস্তুত শিল্পী–সাহিত্যিকদের কীর্তি নিয়ে উত্তর ভারতের প্রবল অনীহা সম্পর্কে আক্ষেপ করে পড়ছিল রবীশের উচ্চারণে। কোনও অভিনেতার প্রয়াণে কিছু গানের কলি, সংলাপের ছিন্নপত্র, সাদা–কালোয় দু’‌খানা ছবি দেখিয়ে দেওয়াই যেখানে দস্তুর, সেখানে রবীশ অনুষ্ঠান করছিলেন অবনত শ্রদ্ধায়, শর্মিলা ঠাকুরের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়ে। রবীশ প্রশংসা করছিলেন বাংলা সংবাদমাধ্যমের সেই সঙ্গে সৌমিত্রকে নিয়ে অ্যাঙ্কারদের পড়াশুন, প্রস্তুতিরও। যাঁরা সকাল–সন্ধ্যে এই কলকাতা আর বাংলার নিন্দা করতে করতে নাওয়া–খাওয়া ভুলে যান, তাঁদের এই অসামান্য অনুষ্ঠানটি ইউ টিউবে দেখে নিতে অনুরোধ করব। আমরা বাংলার নেতির ছবি দেখাতে ব্যস্ত, রবীশরা এখন বাংলার রুচি নিয়ে শ্রদ্ধাবনত। আমরা দেখেও দেখতে পাই না নামজাদা বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি সৌমিত্রবাবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে হোর্ডিংয়ে ছেয়ে দিয়েছে শহরটাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই কুঁদঘাট মধ্য ব্যানার্জিপাড়ার জগদ্ধাত্রী পুজোর মন্ডপ যেভাবে সৌমিত্রময় হয়ে উঠল, তা–ও কি অন্য কোনও শহরে সম্ভব। কুর্নিশ শিল্পী যাদব সেনকে এই অসামন্য ভাবনাকে রূপ দিলেন। নিন্দিত কলকাতার আজ গর্বিত হওয়ার দিন।

জনপ্রিয়

Back To Top