কেউ পশ্চাদপসরণ করছেন শুনলেই মনে হয়, তঁার পক্ষে অপমানজনক। হেরে গেল, পালিয়ে গেল!‌ কিন্তু, কেউ যদি অবিবেচনাপ্রসূত কাজ করার পর বোঝেন যে, উচিত হয়নি, পুনর্বিবেচনা করেন, শুধরে নেন, সাধারণভাবে স্বাগত জানানো যেতেই পারে। মাননীয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের প্রধান ও দৈনন্দিন কাজ কী?‌ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে, মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনের বিরুদ্ধে টুইট করা। আক্রমণ। কপ্টার চাই, অমুক চাই, তমুক চাই, শত আবদার। বিজেপি নেতারা যা বলছেন, দ্বিগুণ করে বলা। ‘‌নিজের সরকারের’‌ বিরুদ্ধে এমনকী সাংবাদিক সম্মেলন। লম্বা লম্বা চিঠি। ভুলে যান, দেশের সংবিধানে রাজ্যপাল পদাধিকারীর হাতে কতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী, ব্যাপারটা জানেন না ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি চ্যান্সেলর, পদাধিকার বলে। নতুন আইন ও বিধি রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর, তঁার ক্ষমতা যে নিতান্তই কম, কার্যত নেই, বোঝেননি জগদীপ ধনকড়, অথবা, বুঝেও মানেননি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–‌উপাচার্য পদের জন্য প্রস্তাবিত তালিকা গিয়েছিল রাজ্যপালের কাছে। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে নির্দেশ দেওয়ার কথা। মতে না মিললে, রাজ্যের মতই গ্রাহ্য হবে, নতুন বিধির পর এ বিষয়ে কোনও সংশয় নেই। রাজ্যপাল মহোদয় এবার কী করলেন?‌ রাজ্যের তালিকাতেই ছিলেন না, এমন একজনকে ‘‌নিয়োগ’‌ করলেন!‌ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, সেই ছাত্রজীবন থেকে অবহিত, কখনও শোনেননি নিয়োগপত্রে সই করছেন রাজ্যপাল!‌ উচ্চশিক্ষা দপ্তর তালিকার প্রথম নামটিকেই গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিল। রাজ্যপাল নাছোড়। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্ট। পিছিয়ে গেলেন। পশ্চাদপসরণ। আমরা বলব, স্বাগত পশ্চাদপসরণ।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top