১৯ মার্চ রাত আটটায় টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচারিত হল। সেই ৮টা, নোটবন্দির ঘোষণা যে–সময়ে হয়েছিল। দেশবাসী আশা করেছিলেন, অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা আশ্বস্ত করবেন, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করবেন। ইতালিতে হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গান, পারস্পরিক ভরসা ও দায়িত্বের কথা ভেবে। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ২২ মার্চ রবিবার বিকেল ৫টার সময় সবাই যেন দরজার সামনে এসে তালি দেন বা ঘণ্টা বাজান। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য। ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা আছে। ঘণ্টা ইত্যাদির কথা বলে ব্যাপারটাকে লঘু না করে দিলে চলত। এক নামী ডাক্তার বলেছেন, ‘‌ধন্যবাদ চাইছি না। চাই কিট, সরঞ্জাম, পরীক্ষাকেন্দ্র, পরিকাঠামো। যাতে ভাল চিকিৎসা করতে পারি।’‌ প্রধান ঘোষণা, ২২ মার্চ, রবিবার ভোর থেকে ১৪ ঘণ্টা বাড়িতে থাকুন, অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রে কর্মীদের বাদ দিয়ে। ‘‌লক ডাউন’‌। পৃথিবীর নানা দেশে হচ্ছে, করতে হচ্ছে। দেশবাসীকে লম্বা ‘‌লক ডাউন’‌–‌এর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, ১৪ ঘণ্টার বার্তা দিয়ে? কিন্তু, গুজব ছড়াল। নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টায় অ্যান্টি–‌ভাইরাস ছড়ানো হবে আকাশ থেকে, সুতরাং সতর্ক হোন!‌ আমেরিকা খুঁজে পায়নি, চীন খুঁজে পায়নি, জাপান খুঁজে পায়নি, ভারত পেয়ে গেল এবং প্রয়োগ করবে?‌ আতঙ্কের গুজব আটকাতে ব্যবস্থা কোথায়? আশা করা হয়েছিল, বিশেষ তহবিলের কথা বলে সাধারণ মানুষের আসন্ন দুর্গতি কমানোর ব্যবস্থা হবে। হল না। আশা করা হয়েছিল, রাজ্যগুলোকে এই পরিস্থিতিতে সহায়তা করার কথা জানাবে কেন্দ্র। হল না। আশা করা হয়েছিল, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর জন্য আশু ব্যবস্থার কথা বলা হবে, আশ্বস্ত করা হবে দেশবাসীকে। হল না। চূড়ান্ত আর্থিক দুর্গতির মধ্যে পড়তে পারেন মানুষ। আশ্বাস দিয়ে কোনও বার্তা?‌ নেই। প্রধান ভাষণ!‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top