রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকায় কেন্দ্র সরকারের কী করা উচিত?‌ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী কিছু টাকা ব্যাঙ্কে ঢেলেছেন, ১০ হাজার কোটি এবার ঢালছেন আবাসন শিল্পকে চাঙ্গা করতে। অর্থাৎ কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তঁার নেই। সহজ কথা, সরকারকেই খরচ করতে হবে, কারণ ব্যাঙ্ক বিনা সুদে ঋণ দিলেও কোনও বেসরকারি সংস্থা নিতে আগ্রহ দেখাবে না। কারণ তারা চায় মুনাফা, যার নিশ্চয়তা এই মুহূর্তে নেই। একমাত্র সরকারই মুনাফা ছাড়া লগ্নি করতে পারে। আমাদের হিসেবে অন্তত ৬০ লাখ সরকারি পদ এখন খালি সারা দেশে, ২ লক্ষ শিক্ষকের পদ ফঁাকা। এই সব শূন্যপদ পূরণ হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে;‌ বাড়বে চাহিদা। অর্থনীতির পরিভাষায় একে বলে ডিমান্ড মাল্টিপ্লায়ার, কেউ বলেন সুপার বা কম্পাউন্ড মাল্টিপ্লায়ার। সমস্ত সরকারি পদ পূরণ হলে সরকারের খরচ হবে বছরে ২ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি, যা জিডিপি–‌র ১ শতাংশ মাত্র। কিন্তু এভাবে ১০ টাকাও খরচ হলে বাজারে ফেরত আসে ২ থেকে ৪ গুণ টাকা। সব থেকে বড় কথা, ব্যাঙ্কগুলির অনুৎপাদক সম্পদের একটা বিরাট অংশ বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই। তাই অবিলম্বেই বিদ্যুতে ভর্তুকি দিতে হবে, দরকারে ১৫ টাকায় বিদ্যুৎ কিনে ৭ টাকায় বেচতে হবে সরকারকে। আর সামলাতে হবে জিএসটি–‌র বৈষম্য। ছোট ব্যবসায়ী জিএসটি–‌র আওতায় না থাকলে বড় ব্যবসায়ী তঁার কাছে মাল কিনতে চাইছেন না ইনপুট ট্যাক্সের জন্য। কারণ তঁাকে কর আগে জমা দিতে হয়, ফেরত পরে। বড় ব্যবসায়ীর পুঁজি জিএসটি–‌তে আটকে থাকছে, তিনি ছোট ব্যবসায়ীকে উল্টে চাপ দিচ্ছেন, ব্যবসা মরছে। এদিকে, কৃষিক্ষেত্র ডুবে গেছে, অবিলম্বে ফসলের সহায়কমূল্য বাড়াতে হবে, তাতে খাদ্যের দাম বাড়লেও গণবণ্টন ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব। সীতারামন কি শুনছেন?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top