নরেন্দ্র মোদিরা কত বড় মিথ্যাবাদী, তার অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে আছে। প্রতিশ্রুতির মিথ্যা ছেড়েই দিন, বহু ‘‌জুমলা’‌র কথা অনেক হয়েছে, পরেও হবে। আপাতত বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার অপরাধ অস্বীকার যেভাবে করছেন মোদি–‌শাহ, স্তম্ভিত হতে হয়। সম্প্রতি অবশ্য আরও দুটি মিথ্যাচারের কথা সামনে এসেছে। বালাকোটে বিমান হানার সময় আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, বিমান বাহিনীর কর্তারা ঝুঁকি নিতে চাইছিলেন না। মোদি নিজেই বলছেন, তিনি ওঁদের পরামর্শ শুনেও সেদিনই হানার পরিকল্পনা বহাল রাখেন। কারণ, তাঁর মতে, আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে পাকিস্তানের রেডারে আমাদের বিমান ধরা পড়বে না। দেখাই যাবে না!‌ প্রশ্ন উঠেছে, বায়ুসেনা কর্তাদের বক্তব্য অগ্রাহ্য করা কি ভয়ঙ্কর ভুল নয়?‌‌‌ এমন রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য প্রকাশ্যে বলে তিনি কি কার্যত দেশবিরোধী কাজ করলেন না?‌ তার চেয়ে বড় কথা, ডাহা মিথ্যা কথা। মেঘের জন্য রেডার কাজ না করলে, বর্ষার সময়ে দেশের কোনও বিমানই উড়তে পারত না।‌ ১৯৮৮ সালে তিনি নাকি ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তুলে ই–‌মেলে পাঠিয়েছিলেন। পেয়ে, আদবানি উচ্ছ্বসিত। ডিজিটাল ক্যামেরা?‌ আর, ১৯৮৮ সালে ই–‌মেল?‌ যা পৃথিবীতেই চালু হয়েছে কয়েক বছর পর?‌ কীভাবে ই–‌মেল?‌ কে কীভাবে পেলেন সেই ই–‌মেল?‌ মিথ্যা, মিথ্যা, মিথ্যা। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়েও মোদি–‌শাহ বলে যাচ্ছেন, ভেঙেছে তৃণমূল।‌ বিজেপি কর্মীরা তখন রাস্তায় ছিল, গেট বন্ধ ছিল। গেট কখন কীভাবে ভাঙা হয়েছে, তার আগেই কতজন গেট টপকে ভেতরে ঢুকেছে, কীভাবে ভাঙচুর হয়েছে, ভিডিওতে পরিষ্কার। তবু মিথ্যাচার। মোদি বলছেন, পঞ্চধাতু দিয়ে গড়ে দেবেন মূর্তি। তা, চাইলে সোনা দিয়েও করে দিতে পারেন, কত টাকা!‌ মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, মূর্তি ভেঙে গড়বে তোমরা?‌ এসো দেখি!‌ আর, মোদি–‌শাহ শুনুন, শুধু মূর্তি নয়, আপনাদের গুন্ডারা আঘাত করেছে আমাদের গর্বে, সংস্কৃতিতে, আবেগে, আত্মসম্মানে। বিদ্যাসাগর শুধু মূর্তি হয়ে বেঁচে নেই। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top