সর্বোচ্চ স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কাণ্ডজ্ঞান দেখাবেন, স্বাভাবিক, প্রত্যাশিত। কিন্তু এমন অনেক খবর আসছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে, মনে হতে পারে, ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান ছাড়াই অনেকে পদে বসে আছেন। অস্ট্রিয়ায় আংশিক লকডাউন, বেশি রাতে বাইরে থাকা বারণ। রেস্তোরাঁ থেকে, পানশালা থেকে যাতে বিপজ্জনক কিছু না ঘটে, রাত ১০টার পর কিছুতেই বেরোতে পারবেন না, সরকারের নির্দেশ। একজন ভাঙলেন। কে?‌ তিনি অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট!‌ জানা গেল, ‘‌কিঞ্চিৎ পানাহার’‌ করতে বেরিয়ে মধ্যরাত পার হয়ে গিয়েছিল। সমালোচনা শুনে বলেছেন, না গেলেই হত, তবে এত হইচই করার কিছু নেই!‌‌ ব্রিটেনের অবস্থা ভয়াবহ। করোনা মৃত্যু ৪০ হাজারের দিকে যাচ্ছে। এক মন্ত্রী, বাড়িতে সম্ভাব্য করোনা রোগী, হাসপাতালে পাঠাননি। উল্টে, মন ফুরফুরে করতে ২৬০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে গেছেন গ্রামের ‘‌প্রাসাদে’‌। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো চূড়ান্ত দক্ষিণপন্থী, আমাজন ধ্বংসকে বলেছেন ঘরোয়া ব্যাপার। ভাইরাস যখন ছড়াচ্ছে, বলেছিলেন, ‘‌করোনা একটা কল্পনা ছাড়া কিছু নয়।’‌ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যখন লাফিয়ে বাড়ছে, বললেন, শোনার দরকার নেই। সংক্রমিত হলে দক্ষিণপন্থীদের ওষুধ দেব, বামপন্থীদের দেব সস্তা বিয়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাস্ক পরছেন না। মৃত্যু লক্ষাধিক, তবু বেপরোয়া কথাবার্তা। দিন কয়েক আগে সঙ্গীদের নিয়ে গেলেন নিজের গলফ কোর্টে। খেলা। ছবি। ভারত?‌ আছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরুতে নেমে, সোজা বাড়ি। কর্ণাটক সরকারের নির্দেশ, অন্যরাজ্য থেকে এলে ৭ দিন সরকারি কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সদানন্দ বললেন, ‘‌কেন্দ্রে সার ও রাসায়নিক মন্ত্রী আমি। ওষুধ ব্যাপারটা আমার দপ্তরে। আমি নিয়ম মানব কেন!‌’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top