শিক্ষাক্ষেত্রে গৈরিকীকরণ তো চলছিলই। দেশ বলতে যা বুঝি, শিক্ষা–‌সংস্কৃতি বলতে যা বুঝি, তার কাঠামোটাই চূর্ণবিচূর্ণ করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রকে দখল করার লক্ষ্যে স্থির বিজেপি। কিন্তু, যাঁরা এসবের নেতৃত্বে–‌কর্তৃত্বে, তাঁরা দাঙ্গাপন্থী, প্রতিক্রিয়াশীল হলেও ন্যূনতম ‘‌শিক্ষিত’ হবেন, আশা করা উচিত। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিওয়াল যে সব মন্তব্য করে যাচ্ছেন, তাতে অনেকে হেসে ফেলতে পারেন, কিন্তু ব্যাপারটা তো শুধু হাসির নয়। কাঁদতে হয়। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে গেরুয়া হামলা শুরু হয়েছে পাঁচ বছর আগেই। তিন বছর আগে উপাচার্য পদে বসানো হয় জগদেশ কুমারকে, যিনি আপাদমস্তক আরএসএস–‌এর লোক। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যাঁরা প্রগতিশীল, তাঁদের কোণঠাসা করার গেরুয়া চক্রান্তে উপাচার্য ও তাঁর দলবল প্রকাশ্যে সক্রিয়। ছাত্র সংসদ এবারও বামপন্থী জোটের হাতে, রং পাল্টে দিতে মরিয়া ছিল আরএসএস, স্বয়ং উপাচার্য। ‌এবারও প্রগতিশীল সংগঠনগুলো একজোট, দুর্গ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। ইতিমধ্যে একটা ঘটনা। এমেরিটাস (‌মহিলাদের ক্ষেত্রে এমেরিটা)‌ অধ্যাপক রোমিলা থাপারকে চিঠি দেওয়া হল, গত কয়েক বছরে কী করেছেন, জানান। সিভি চাওয়া হল!‌ রোমিলা থাপার বিশ্ববন্দিত ইতিহাসবিদ। ক্লুগ পুরস্কার পেয়েছেন, যাকে বলা হয় ইতিহাসের নোবেল। এমেরিটাস অধ্যাপক করা হয় তাঁদের, যাঁরা শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বাড়ে। ৮৭ বছর বয়সি ইতিহাসবিদের কাছে চাওয়া হচ্ছে সিভি। নামী অর্থনীতিবিদ, কৃতী অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়কও এমেরিটাস। স্ত্রী উৎসা পট্টনায়কও একই মর্যাদায়। তাঁদের ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে গবেষণার কাজে সাহায্য না করতে পারেন। এই গেরুয়া ব্রিগেড শুধু অশিক্ষিত নয়, চূড়ান্ত অসভ্য।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top