স্বল্প সঞ্চয় আমাদের মতো দেশের জন্য অতি অপরিহার্য। সাধারণ দরিদ্র, মধ্যবিত্ত মানুষের হাতে অর্থের পরিমাণ কম। বড় পরিমাণে সঞ্চয় অসম্ভব। বাজার, শেয়ার, বন্ডে অর্থ বিনিয়োগ আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই করতে পারে না। এ ধরনের সঞ্চয় উচ্চবিত্ত এবং ধনীদের জন্য। তা ছাড়া বেসরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি প্রবল। ফাটকায় কখন লাভ, কখন লোকসান তার ঠিক নেই। সাধারণের পক্ষে লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ধনীরা ভবিষ্যতে বড় বিনিয়োগ দিয়ে লোকসান সামলাতে পারে। তাই ভরসা স্বল্প সঞ্চয়ে। স্বল্প সঞ্চয় শুধু একটা দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ তৈরি করে না, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে করে শক্তিশালী। এই ধরনের ছোট ছোট প্রকল্পে সঞ্চয় যত বাড়ে, উপকৃত হয় রাজ্যগুলি। এই সঞ্চয়ে রাজ্যের ভাগ থাকে সব থেকে বেশি। রাজ্য এই প্রকল্প থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে পারে। সুদও দিতে হয় কম। কেন্দ্রের কাছে বারবার হাত পাততে হয় না। স্বল্প সঞ্চয় কোনওভাবে ধাক্কা খাওয়ার অর্থ রাজ্যের উন্নয়ন ধাক্কা খাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নড়বড়ে করে দেয়। এক সময়ে এই রাজ্যে স্বল্প সঞ্চয়কে এক ধরনের আন্দোলনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাজ্যের মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছিল যাতে স্বল্প সঞ্চয়ের নানা প্রকল্পে তার অর্থ রাখে। মানুষও ভরসা পায়। সরকারি ঘর থেকে টাকা নয়ছয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্বল্প সঞ্চয় যত জনপ্রিয় হবে, চিটফান্ডের ফঁাদ থেকে মানুষ তত দূরে সরে থাকবে। উল্টোটাও যে সত্যি, স্বল্প সঞ্চয়ে খাটো করলে টিচফান্ডের রমরমা হতে থাকে। তাই এই সঞ্চয় প্রকল্প অর্থনীতির সঙ্গে এক ধরনের সামাজিক দায়ও বটে। খুবই লজ্জার কথা, এই প্রকল্পকে আমাদের দেশে বারবার আঘাত করা হয়। প্রকারান্তরে উৎসাহ বাড়ানো হয় নানা ধরনের অসাধু প্রকল্পকে। আবার তাই হল। নির্বাচনে বেশি আসনে জিতে বিজেপি সরকার স্বল্প সঞ্চয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের সুদ দিয়েছে কমিয়ে। বিরোধীদের উচিত মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করা। শুধু দলীয় রাজনীতির স্বার্থে মেতে থাকলে, মানুষের বিশ্বাসভাজন হওয়া যায় না। আন্দোলনকে নিয়ে যেতে হয় বৃহৎ পরিসরে। রাজ্যের স্বার্থে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top