দুরাত্মার ছলের অভাব হয় না। উঠতে–‌বসতে যাঁর মুখে সামাজিক ন্যায়ের বুলি, সেই মায়াবতীর মুখোশ খুলে গেছে। গরিষ্ঠতার অঙ্কে কম পড়লে মোদি কার সাহায্য আগে পাবেন?‌ ভোটের আগে এই প্রশ্নটি তুললেই বিশেষজ্ঞরা মায়াবতীর নাম করতেন, খুব একটা ভুল যে করতেন না তা–‌ও প্রমাণিত। এবার আরও সুচতুর ছিল মায়ার খেলা। বিজেপি–‌কে সমর্থন দেওয়ার ঝুঁকি নেননি, মহাজোটের আড়াল থেকেই কাজ সেরেছেন। বসপা নেত্রী বলছেন, যাদব ভোট পুরোটা মহাজোটে ধরে রাখতে অখিলেশ ব্যর্থ বলেই তিনি এবার আলাদা লড়ছেন। সর্বৈব মিথ্যা। মহাজোটে সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে মায়াবতীর, ২০১৪ সালে একটিও আসন জিততে পারেননি, এবার জিতেছেন ১০টি। সপা–‌র ভোট না পেয়ে নিজের জোরেই জিতেছেন?‌ বসপা–‌র দলিত ভোট সপা পেয়ে থাকলে তাদের আসন কমে গেল কেন?‌ কেনই বা ২২ থেকে ১৭ শতাংশে নেমে এল সপা–‌র ভোট? উত্তর জলের মতো পরিষ্কার। দলিত ভোট ব্যাঙ্কের ওপর মায়াবতীর আর নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই তলে তলে দলিত ভোট বিভাজনে সায় দিয়ে মোদির সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করেছেন। তাঁর সম্পত্তি নিয়ে বিশেষ কেন্দ্রীয় তৎপরতার আশঙ্কাও সমূলে বিনাশ করেছেন। আমেঠির বসপা নেতা ভোটের ঠিক আগেই কার অঙ্গুলিহেলনে বিজেপি–‌তে যোগ দিলেন, তা–‌ও এতদিনে সবাই বুঝতে পেরেছেন। কেন অখিলেশের আগ্রহ সত্ত্বেও কংগ্রেসকে আরও কয়েকটা আসন ছাড়লেন না, কেন আরও সংহত হতে দিলেন না মহাজোটকে?‌ এ সব প্রশ্নের উত্তর এখন পরিষ্কার। গত বছর লোকসভার উপনির্বাচনে জেতার সময় মহাজোটের দলিত, যাদব ভোট নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না। অশনি সঙ্কেত টের পেয়ে মায়াকে বশ করেছেন অমিত শাহরা, উত্তরপ্রদেশেই আসল খেলা চলছিল, টের পাননি কেউ।

জনপ্রিয়

Back To Top