বর্ষাকালে অতিবৃষ্টিতে দুর্গত হয়ে পড়ে দেশের নানা এলাকা, প্রতি বছরের চেনা কাহিনী। এবার কেরলে যে–‌বন্যা নেমে এসেছে, তা সাধারণ গোত্রের নয়। সারা বছরে যত বৃষ্টি হয়, এবার তার দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। এবং খুব অল্প সময়ে। কেরলের ইতিহাসে একশো বছরের মধ্যে এমন দুর্যোগ নেমে আসেনি। কয়েকটি রাজ্য অর্থসাহায্য পাঠিয়েছে, হৃদয়ের ডাকে সাড়া দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। ১০ কোটি টাকা। আরব দুনিয়ার কিছু দেশও বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। সেই দেশগুলোয় বহু কেরলবাসী কাজ করেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। কেন্দ্রের বিপর্যয় ত্রাণ তহবিল থেকে অবিলম্বে ৫০০০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হেলিকপ্টারে বসে বন্যা পরিস্থিতি দেখলেন। কাগজে অনেক ছবি প্রকাশিত হল। কিন্তু মঞ্জুর করলেন মাত্র ৫০০ কোটি টাকা। বিজেপি–‌শাসিত রাজ্য না হলেই এমনটা হয়ে থাকে। ‘‌সাহায্য’‌ নয়। দয়া নয়। জাতীয় বিপর্যয় তহবিল রয়েছে এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার জন্য। তবু হাত খুলছে না কেন্দ্রের। এই অমানবিক মনোভাবের পাশাপাশি, ছোট ছোট কিছু কাহিনী উঠে আসছে, হৃদয়ের ডাকে সাড়া দেওয়ায় মন ভাল করে–‌দেওয়া ঘটনা। কেরলের তরুণী হানান। মাছের ব্যবসা করেন। বিক্রি করার ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলেন মাস দেড়েক আগে। ‘‌অসুস্থ’‌ কিছু মানুষ ঝঁাপিয়ে পড়েছিলেন। মাছ বিক্রি করছেন তরুণী, এটা উঁচু গলায় প্রচার করার কী মানে হয়!‌ কী এমন মহৎ কর্ম যে, জনসাধারণকে জানতে হবে!‌ মাছ বিক্রি করে, ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখাই তো ভাল!‌ হ্যঁা, যঁারা এমন মণিমুক্তো ছড়িয়েছেন, তঁারা সকলেই শিক্ষিত। শিক্ষিতই বটে!‌ উজ্জ্বল হানান বন্যাত্রাণে দিলেন দেড় লক্ষ টাকা। মন ভাল হয়ে যায় না?‌ কলকাতায় ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ। খেলা শেষের পর বহু ক্রীড়াপ্রেমিক পকেটে যতটুকু আছে, তুলে দিলেন কেরলবাসী ফুটবলার জবি জাস্টিনের হাতে। আপ্লুত জবি বললেন, এ শুধু কলকাতার মাঠেই হতে পারে। কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ নিশ্চয় ক্রুদ্ধ করে আমাদের। পাশাপাশি, ছোট ছোট ঘটনা মন ছুঁয়ে যায়। হৃদয়ের ডাকে সাড়া। মানবিক আচরণ। গর্ব।‌

জনপ্রিয়

Back To Top