চার রাজ্যে চার উপনির্বাচনে ভোট হয়ে গেল। কেন্দ্রে একচ্ছত্র শাসন। বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল নিয়ে চর্চা বেশি নয়। তবু, দেখা যাক। উত্তরপ্রদেশের একটি কেন্দ্রে বিজেপি জয় ধরে রাখল। ব্যবধানটা একটু কমেছে। বিরোধী জোট নেই। দ্বিতীয় স্থানে সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশ যাদব বলছেন, দ্বিতীয় স্থানে থেকে আনন্দের কিছু নেই। ছত্তিশগড়ে উপনির্বাচন ছিল দান্তেওয়াড়ায়। লোকসভা ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এবার জিতল কংগ্রেস। সামান্য স্বস্তি। সোনিয়ার দলের পক্ষে একটু ভাল খবর। দুই কেন্দ্রের ফল নিয়ে চর্চা করা যায়। কেরলের পালা কেন্দ্রে গত ৫০ বছর জেতেনি বাম গণতান্ত্রিক জোট। লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২০–‌র মধ্যে ১৯ আসন পেয়েছে কংগ্রেস। স্বয়ং রাহুল গান্ধী জিতেছেন ওয়েনাড় কেন্দ্রে। এলডিএফ বিপর্যস্ত। ‌আগামী বিধানসভা ভোটে পালাবদল অনিবার্য, ভাবছিল কংগ্রেস। কিন্তু কং জোটের গড়ে এবার পালাবদল। জয়ী বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বললেন, লোকসভা ভোটে বিপর্যয় একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে। বাম জোটের জয় থেকে স্পষ্ট, ঘুরে দাঁড়ানো গেছে, কেরলে তাঁরাই সরকারে থাকবেন। এবং ত্রিপুরা। সবাই জানেন, পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীদের প্রার্থী দিতে দেওয়া হয়নি ৮৬ শতাংশ আসনে। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে, বাধারঘাট কেন্দ্রে শাসক দলের অত্যাচার ছিল। কিন্তু, আগের জায়গায় থাকল না। বিজেপি আসনটা ধরে রেখেছে, কিন্তু ব্যবধান অনেক কম। গত ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ৫৮ শতাংশ ভোট। এবার ৪৪ শতাংশ। সিপিএম পেয়েছিল ২০ শতাংশ, এবার ৩৪ শতাংশ। এবারও জুলুম, সন্ত্রাস। কিছু মানুষ কিন্তু সত্যিটা জানালেন। বিপ্লব দেবের সরকার ব্যর্থ। আগরতলায় তুমুলভাবে বেড়েছে অপরাধ। কোনও প্রকল্পের রূপায়ণ হয়নি। ঘন ঘন  মুখ্যসচিব বদল, ডিজি অপসারণ, প্রশাসনে ঘোর অনিশ্চয়তা, ইস্তফা দিয়েছেন এক আইএএস অফিসার। ঠিকাদারির কাজেও পছন্দ করে দিচ্ছে দিল্লি ও নাগপুর। চরম হতাশা, ক্ষোভ। মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি এবারও। তবু, বাধারঘাটে নীরব প্রত্যাখ্যান পরিষ্কার হয়ে গেল।

জনপ্রিয়

Back To Top