একক গরিষ্ঠতা ভুলে যান, জোট ছাড়া উনিশে নরেন্দ্র মোদির ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। শরিকরা সেটা বুঝে গেছে। এতদিন গরিষ্ঠতার গুমোরে মোদি–‌শাহ জুটি ধরাকে সরা জ্ঞান করেছে, এবার শরিকদের হিসেব বুঝে নেওয়ার পালা। শিবসেনা আগেই চাপ দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে, এবার পালা অকালি দলের। বস্তুত শিবসেনার পরই বিজেপি–‌র হাত ধরেছিল অকালি দল। আসলে ক্ষমতা আর সংখ্যার গর্বে মোদিরা শরিকদের উপেক্ষা করতে শুরু করেন। তেলুগু দেশমকে দেওয়া কথা রাখতেও ভুলে গেছেন মোদিরা। ওঁরা ভুলে গেছেন শরিকদের ভোট বিপুল পরিমাণে পেয়েছিল বলেই বিজেপি একা গরিষ্ঠতায় পৌঁছতে পেরেছিল। পরে দেখা গেছে, বিজেপি শরিকদের জেতাতে বা তাদের স্বার্থরক্ষায় তেমন আগ্রহ দেখায়নি। বিজেপি বাড়তে চেয়েছিল, স্বাভাবিক। কিন্তু গয়ারামদের ভাঙিয়ে রাজ্য দখল করা আর মানুষের মন জয় আলাদা ব্যাপার। এবার হরিয়ানায় বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে আলাদা লড়ার ডাক দিল এনডিএ শরিক শিরোমণি অকালি দল। অর্থাৎ যেখানে বিজেপি–‌র জোর, সেখানেই কামড় দেওয়ার কৌশল নিয়েছে শরিকরা। কারণ বিজেপি–‌র ক্ষমতা কমাতে না পারলে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে যাবে। দরাদরির প্রশ্ন উঠবে উনিশের ভোটের পর। হরিয়ানার পাঞ্জাবিদের ভোট কাটতে পারলে, সুখবীর সিং বাদল অন্তত দলটা বাঁচাতে পারবেন। হরিয়ানায় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোকদলের সঙ্গে সমঝোতা করে লড়াইয়ের কথা বলেছিল শিরোমণি অকালি দল। সেই জোট ভেঙে গেছে। ভাঙবে বিজেপি–‌র ভোটও। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ২০১৯–‌এর লোকসভা ভোটে ম্যাজিক ফিগারের থেকে অন্তত ২৭টি আসন কম পাবে বিজেপি। ভোট যত এগিয়ে আসবে, তত এই সংখ্যাটা বাড়বে। ওই সমীক্ষা বলছে, এখন অনেক কম শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে চান। শুধু মোদি নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের মান পড়ে গেছে বলেও মনে করেন নাগরিকদের একটা বড় অংশ। ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজে ন্যূনতম খুশি ছিলেন ৭১ শতাংশ মানুষ। এখন মাত্র ৫৬ শতাংশ।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top